“কৃত্তিম সংকট তৈরি করেছে কেন্দ্র। গ্যাস কোম্পানিগুলির সঙ্গেও মিটিং করে জানতে পেরেছি কোনও সংকট নেই। ওরা সার্ভার ওপেন করুক।”

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। রবিবারই নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। তারপর থেকে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। এসআইআর থেকে শুরু করে একাধিক ইস্যুতে সরব হয়েছেন, টানা ৫দিন ধর্নাতেও বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল, ইরানের মধ্যে যুদ্ধের আবহে তেলের দাম বেড়েছে। বেড়েছে রান্নার গ্যাসের দামও। জোগানও কম। এর প্রতিবাদে এবার রাজপথে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার কলেজ স্কোয়ার থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত মিছিল করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদেই মূলত এই কর্মসূচি তাঁর।
মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মিছিলের সামনের সারিতে ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, বিরবাহা হাঁসদা, সায়নী ঘোষ, নয়না দাস, রত্না চট্টোপাধ্যায়, শ্রেয়া পান্ডে সহ প্রমুখ। ডোরিনা ক্রসিংয়ে মিছিল পৌঁছনোর পর মঞ্চে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ আজকের এই মিছিল ভোটের আগেই ঠিক করা ছিল। গ্যাসের দাম যেভাবে বেড়েছে, সেজন্য এই কর্মসূচি নিয়েছি। কৃত্তিম সংকট তৈরি করেছে কেন্দ্র। গ্যাস কোম্পানিগুলির সঙ্গেও মিটিং করে জানতে পেরেছি কোনও সংকট নেই। ওরা সার্ভার ওপেন করুক।”
মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরানো নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া, “রাত একটায় মেসেজ পেলাম। মধ্যরাতে কখনও শুনেছেন একটা রাজনৈতিক দল চুপিচুপি বিহাইন্ড দ্য সিন গুপ্ত তাণ্ডব করছে। মুখ্যসচিব বাঙালি মহিলা, ওরা নারী বিদ্বেষী। তাই তাঁকে সরিয়ে দিল। আমাদের রাজ্যের কাছে আগে লিস্ট চাইতেন। আমরা তিনটে করে নাম পাঠাতাম। তার থেকে সিলেক্ট করতেন। এটা সুয়োমোটো। যেন দিল্লি কা লাড্ডু। যেন জমিদারি, মগের মুলুক।”
ভোট ঘোষণার পর প্রশাসনিক স্তরে কমিশনের একাধিক রদবদলের পর অগ্নিশর্মা মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া, “ পুলিশকে থ্রেট করে লাভ নেই। ওরা সরকারি চাকরি করে। ওরা নিজেদের যোগ্যতায় চাকরি করে। চাকরিটা আপনারা দেননি। আপনারা দেড়মাসের জন্য সরাবেন। আবার বলছে আগামী ৫ বছরের জন্য সরাবো। তোমরা ঘেঁচু করবে। তোমাদের কচু খাওয়াবো। কচু ঠিকমতো রান্না না করলে গলা কুটকুট করে। তাই এখন থেকেই তেঁতুল জল রেডি রাখো। আমরা যেটা বলি সেটা আমরা করি। সাধারণ মানুষ জোট বাঁধুন। বিজেপিকে বয়কট করুন। টাকা দিলেও ভোট দেবেন না। কেন বদলি করলেন কলকাতা কমিশনার সুপ্রতিমকে? টাকা ঢোকাবেন বলে? যাতে আপনাদের হাতেনাতে ধরতে না পারে সেজন্য? আমরাও সজাগ দৃষ্টিতে নজর রাখবো।”
একদিন আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কলকাতায় এসে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র নিশানা করেন। এছাড়া বিজেপির মিছিল থেকে শশী পাঁজার বাড়ি লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগও উঠেছে। সোমবার তারও পাল্টা জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “গ্যাস খেয়ে গ্যাস বেলুন হবেন না। যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা। আবার পরিবর্তনের সংকল্প করছে। আগে নিজের দিল্লির সংকট থেকে মুক্ত হও। ২৬-এ তোমার সরকার পড়ে যাবে। এজেন্সি নিয়ে এসে কাকে ভয় দেখাচ্ছ ? কই মনিপুরে এতদিন আদিবাসী মেয়েদের উপর অত্যাচার হয়েছে, একটা মেয়ে মারা গেছে, তাদের জন্য তোমার হৃদয় কাঁদেনি ? এসআইআরের জন্য কত মানুষ মারা গেছে, তাদের জন্য তোমাদের হৃদয় কাঁদেনি ? জেনে রেখো ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।”
এরপরই মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা , “এবার বিজেপিকে ছক্কা মারতে হবে, যাতে ওরা বলে আমি বিজেপি করবো না। তৃণমূল জিতছে, বাংলার মানুষ জিতবে। এবার আমাদের সিট আরও বাড়বে। তোমরা রসাতলে যাবে। ইলেকশনে তোমরা এক শালিকের মতো উঁকিঝুঁকি মারবে। ভোট হলেই তোমরা পগার পাড়।”