‘লোডশেডিং’ ঘটিয়ে কারচুপির চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কাপ্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : “ভোট মিটলেই দায়িত্ব শেষ”— এমন ভাবনা একেবারেই নয়। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের কর্মিসভায় গিয়ে কর্মীদের এমনই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সন্ধ্যায় ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ওই রুদ্ধদ্বার কর্মিসভায় নেত্রীর কড়া বার্তা — “ভোটের দিন কাজ শেষ হলেও বাড়ি ফেরা চলবে না, স্ট্রং রুমে নজরদারি চালিয়ে যেতে হবে।”
‘লোডশেডিং’ ঘটিয়ে কারচুপির চেষ্টা হতে পারে বলেও আশঙ্কাপ্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
কর্মীদের সতর্ক করতে গিয়ে ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম ভোটের প্রসঙ্গ টানেন মমতা। সেই নির্বাচনে তাঁর পরাজয়ের পর তৃণমূলের তরফে অভিযোগ উঠেছিল, গণনার সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটিয়ে কারচুপির মাধ্যমে জয়ী হন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই আগাম সতর্কবার্তা, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এ বার ভবানীপুরে সরাসরি লড়াই মমতা ও শুভেন্দুর মধ্যে। ইতিমধ্যেই প্রচারে নেমে পড়েছেন শুভেন্দু। সেই আবহে চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে কর্মিসভা করে নির্বাচনী প্রস্তুতির সুর চড়ালেন তৃণমূলনেত্রী। সূত্রের খবর, সেখানে তিনি স্পষ্ট করে দেন— ভোট মিটলেই দায়িত্ব শেষ নয়, বরং গণনা পর্যন্ত কর্মীদের সক্রিয় থাকতে হবে। স্ট্রং রুমে কড়া নজরদারির নির্দেশও দেন তিনি।
সভায় ভবানীপুরের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন মমতা। তিনি জানান, এই কেন্দ্র শুধু একটি বিধানসভা এলাকা নয়, তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন ধর্ম ও ভাষার মানুষের সহাবস্থানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর কথায়, ভবানীপুরের মানুষ তাঁকে নিজেদের একজন বলেই মনে করেন, উৎসব-অনুষ্ঠানে ডাকেন, আর তিনি সাড়া দেন সেই ডাকে।
এর পরেই বিজেপিকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ। কটাক্ষ করে বলেন, “গ্যাস দিতে পারে না, কিন্তু নির্বাচনে ‘ক্যাশ’ দেয়।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার জন্য তাঁর দলের দুই কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও এ দিন প্রশ্নের মুখে তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকারের প্রায় ৫০ জন অফিসারকে সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকেও কটাক্ষ করে বলেন, কোনও অশান্তি হলে তার দায় নিতে হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কমিশনকেই।
উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম ভোট নিয়ে আইনি লড়াই এখনও শেষ হয়নি। পুনর্গণনার দাবিতে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেছিলেন মমতা। বিচারপতি বদল নিয়ে টানাপোড়েনের পর সেই মামলা বর্তমানে বিচারাধীন। এ দিন কর্মীদের সতর্ক করতে গিয়ে সেই বিতর্কই আবার সামনে আনলেন তৃণমূলনেত্রী।
এদিকে ভবানীপুরে ভোটার তালিকা সংশোধনের পর ইতিমধ্যেই প্রায় ৪৭ হাজার ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। আরও প্রায় ১৪ হাজার নাম বিবেচনাধীন। এই পরিস্থিতিতে প্রতিটি ভোট ও ভোট-পরবর্তী পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর বার্তা যে রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যকে ‘পরাজিতের আর্তনাদ’ বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। তাদের দাবি, অতীতের অজুহাত তুলে ধরে আগাম চাপ তৈরি করার চেষ্টা চলছে। সব মিলিয়ে, ভবানীপুরে ভোট ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই চড়ছে।