নিষ্পত্তি হওয়া অতিরিক্ত প্রথম তালিকা প্রকাশ কমিশনের

অতিরিক্ত প্রথম তালিকায় নাম আছে কি না কীভাবে দেখবেন ?

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : রাজ্যের বিবেচনাধীন ভোটারদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপডেট নির্বাচন কমিশনের। সোমবার প্রায় মধ্যরাতে প্রকাশ করা হয়েছে অতিরিক্ত প্রথম তালিকা, যেখানে রাজ্যের প্রতিটি বুথের জন্য দু’টি পৃথক তালিকা দেওয়া হয়েছে। একটি তালিকায় রয়েছে নিষ্পত্তির পর যাঁদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যুক্ত করা হল। অন্য তালিকায় রয়েছে যাঁদের নাম বাদ পড়ল।

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ২৯ লক্ষের নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ, এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে— তাঁদের নাম হয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, নয়তো বাদ গিয়েছে। তবে এই ২৯ লক্ষের মধ্যে ঠিক কত জনের নাম সংযোজন হয়েছে এবং কতজনের নাম মুছে ফেলা হয়েছে, সেই নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান এখনও প্রকাশ করেনি কমিশন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকার মতোই, এই ক্ষেত্রেও ভোটারেরা বাড়িতে বসেই অনলাইনে নিজেদের নামের বর্তমান অবস্থা যাচাই করতে পারবেন। এর জন্য নির্বাচন কমিশনের মূল ওয়েবসাইট, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের ওয়েবসাইট অথবা নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে। সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে গিয়ে ভাষা, এপিক নম্বর, রাজ্যের নাম এবং ক্যাপচা কোড পূরণ করে ‘সার্চ’ অপশনে ক্লিক করলেই জানা যাবে ভোটারের নামের বর্তমান অবস্থা।

যদি কারও নাম ইতিমধ্যেই যাচাই হয়ে থাকে এবং কোনও সমস্যা না থাকে, তবে তা স্বাভাবিকভাবেই তালিকায় দেখা যাবে। অন্যদিকে, যদি নাম এখনও বিবেচনাধীন থাকে, তবে তার নীচে ‘অ্যাডজুডিকেশন’ লেখা থাকবে। আর যাঁদের নাম মুছে ফেলা হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ‘ডিলিটেড’ উল্লেখ থাকবে।

তবে তালিকা প্রকাশের পর থেকেই প্রযুক্তিগত সমস্যার অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। অনেক ভোটার জানিয়েছেন, এপিক নম্বর দেওয়ার পরেও নাম দেখা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প উপায় হিসেবে সংশ্লিষ্ট বুথের সম্পূর্ণ তালিকা ডাউনলোড করে দেখা যেতে পারে।

সিইও দফতরের ওয়েবসাইটে ‘সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট নম্বর-১ টু দ্য ফাইনাল লিস্ট’ এবং ‘ডিলিশন লিস্ট নম্বর-১ টু দ্য ফাইনাল লিস্ট’— এই দুই পৃথক অপশন থেকে তালিকা ডাউনলোড করা যাবে। নির্দিষ্ট তথ্য যেমন রাজ্য, বছর, জেলা, বিধানসভা কেন্দ্র ও ভাষা নির্বাচন করে তালিকা সংগ্রহ করা সম্ভব।

তবে কিছু ক্ষেত্রে এই তালিকাও ডাউনলোড করতে সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ। সেই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট বুথ, বিডিও অফিস, মহকুমাশাসকের দফতর বা জেলাশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে সরাসরি তালিকা দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।