বাধ্য ছাত্রের মতো পুরো সাংবাদিক সম্মেলনে নম্রচিত্তে ওয়েইসির হ্যাঁ-তেই হ্যাঁ মিলিয়ে গেলেন হুমায়ুন কবীর।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : বাংলার ভোটের ময়দানে ঝড় তুলতে একইমঞ্চে আসাদউদ্দিন ওয়েইসি ও হুমায়ুন কবীর। ভোট ময়দানে সংখ্যালঘুদের হয়ে হ্যামিলটনের বাঁশিওয়ালার ভূমিকায় হুমায়ুন কবীর। আর সেই বাঁশিতে ফুঁ দিয়ে লড়াইয়ে সহমত জানালেন ওয়েইসি। রাজনীতির ময়দানে এক তাঁরা ভাই -ভাই। কলকাতায় পাশাপাশি বসে সাংবাদিক সম্মেলন। তার আগে রাতে দুই নেতার একান্ত বৈঠক। ১ লা এপ্রিল থেকে ঝড় তোলার ইঙ্গিত দুই পক্ষের। ১ লা এপ্রিল থেকে কি হতে চলেছে বাংলায়। না কোনও এপ্রিল ফুল নয়, সংখ্যালঘু উন্নয়নকে টার্গেট করেই ভোট ময়দানে নামার বার্তা ওয়েইসির । জনসভা থেকে প্রচার, বাংলায় এবার দাপট দেখাতে তৎপর মিম। সঙ্গে আবার হুমায়ুন কবীরের এজেইউপি। ওয়েইসিকে দাদা সম্বোধন করে হাতে হাত রেখে লড়াইয়ের বার্তা হুমায়ুন কবীরের। হুমায়ুন কবীরের একটাই ভরসা, আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তবে আর কি এবার বড় দাদার পরামর্শ ও রূপরেখাতেই ভোট ময়দানে ঝাঁপাতে চলেছেন হুমায়ুন কবীর। লক্ষ্য সংখ্যালঘু ভোট পকেটে পোরা। মিম কি পারবে বিহারের মতো বাংলাতে খাতা খুলতে। কী বলছেন ওয়েইসি। সংখ্যালঘুদের মন পেতে রাতের বৈঠকে ওয়েইসি কী দাওয়াই দিলেন হুমায়ুন কবীরকে। যে বাধ্য ছাত্রের মতো পুরো সাংবাদিক সম্মেলনে নম্রচিত্তে তাঁর হ্যাঁ তেই হ্যাঁ মিলিয়ে গেলেন হুমায়ুন কবীর।
গ্রিন সিগন্যাল আগেই পেয়ে গিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। শুধু অপেক্ষা ছিল ওয়েইসির বাংলায় এসে তাঁকে সরাসরি সমর্থন করা। হুমায়ুন কবীরের সেই সাধ এবার পূরণ হল। মঙ্গলবার কলকাতায় আসেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে একেবারে ছায়াসঙ্গীর মতোই দেখা গেল কবীর সাহেবকে। সাংবাদিক সম্মেলনেও বাধ্য ছাত্রের মতো ওয়েইসির বক্তব্যকে সমর্থন করতে দেখা যায় হুমায়ুন কবীরকে। আবার ওয়েইসিকে বড় দাদা সম্বোধন করে সম্মান দেখাতেও দেখা গেল তাঁকে। হবে নাই বা কেন তাঁর প্রেস্টিজ ফাইটে একমাত্র মুখ হিসাবে ওয়েইসিকেই পাশে পেয়েছেন হুমায়ুন কবীর।
অন্যদিকে হুমায়ুন কবীরকে সঙ্গে নিয়ে বাংলায় শাখা প্রশাখা বিস্তার করার লক্ষ্যে ওয়েইসি। বাংলায় যৌথ ভাবে ২০ টি সভা হবে। ১ এপ্রিল থেকে তার সূচনা। প্রথমে বহরমপুরে ১লা এপ্রিল সভা হবে। ওই সভায় লক্ষ সমাগম হবে বলে বার্তা হুমায়ুন কবীরের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংখ্যালঘু উন্নয়ন নিয়ে উদাসিন বলে কটাক্ষ করে ওয়েইসির বার্তা, বাংলায় সংখ্যালঘু নেতৃত্ব মজবুত করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গে বড় সমস্যা সংখ্যালঘু অনুন্নয়ন। সংখ্যালঘুদের নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ শানিয়েছেন ওয়েইসি।
মিম মূলত হায়দরাবাদের দল। কিন্তু গতকয়েকবছর ধরে বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে তারা। মূলত মুসলিম সত্ত্বাকে সামনে রেখেই ভোট ময়দানে অবতীর্ণ হন তাঁরা। সম্প্রতি বিহার বিধানসভায় ৫ টি আসনে জিতেছে তারা। বিহার এ রাজ্যের পড়শি। আর মিম যে কটি আসনে জিতেছে তার বেশিরভাগই পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া । অতএব বাংলায় মিম যে খাতা খুলতে তৎপর হবে তা তো বলাই বাহুল্য। তাই বাংলার নির্বাচনে এবার হুমায়ুন কবীরের দলের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়েছে মিম। হুমায়ুন কবীরের বাঁশিতে কী এক সুর বাজবে। নাকি প্রার্থী নিয়ে জোট পাকবে। ১ লা এপ্রিলই মনোনয়ন জমা দেবেন হুমায়ুন কবীর। বাঁশি চিহ্নে রেজিনগরও ও নওদা কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি। গত ২২ তারিখ ১৫৩ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছেন হুমায়ুন কবীর। সূত্রের খবর মুর্শিদাবাদ, মালদা দঃ ২৪ পরগনা জেলার কয়েকটি আসন নিয়ে মিমের সঙ্গে সমঝোতা চলছে এজিইউপির। সাংবাদিক সম্মেলনে সে কথা স্বীকারও করে নিয়েছেন ওয়েইসি। তবে এটাও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, জোট সঙ্গির হয়ে লড়াইটা মূল লক্ষ্য। এখনই বেশি আসনে লড়াই করতে চান না।
অন্যদিকে ওয়েইসির সঙ্গে জোট ও সখ্যতা দেখে অনেকেই বলছেন তলে তলে বিজেপির যোগাযোগ রেখেই ভোট ময়দানে অবতীর্ণ হুমায়ুন কবীর।
বৃহস্পতিবারের মধ্যে মিম ও এজেইউপি জোটের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়ে যাবে। বাংলায় আগামীতে মিম যে ফ্যাক্টর হতে চলেছে তা বুঝিয়ে দিলেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তাই নির্বাচনী প্রচারে ফোকাস দিতে বাংলায় বারবার আসবেন ওয়েইসি। কমপক্ষে ২০ টি সভায় যোগ দেবেন তিনি, পাশাপাশি আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দলের অন্য শীর্ষ নেতৃত্বরা সব মিলিয়ে ৩০ রালিতে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি হেভিওয়েট কেন্দ্র ভবানীপুর নিয়েও পরিকল্পনা রয়েছে মিম ও এজেইউপির। তবে তা ক্রমশ প্রকাশ্য বলেই জানালেন জোটের দুই নেতা।