আগামী ১২ এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদ নির্বাচন। মূলত লড়াই বিজেপি এবং তিপ্রামথার মধ্যে ।

শ্রেয়সী বল, সাংবাদিক : ত্রিপুরায় পাহাড়ে নির্বাচনের আগে তিপ্রামথা পার্টির শক্তি বৃদ্ধি । দক্ষিণ জেলা শান্তির বাজারে সিপিআইএম এবং বিজেপি ছেড়ে ৪৬ জন ভোটারের যোগদান !
আগামী ১২ এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদ নির্বাচন। বিজেপি, তিপ্রামথা ও সিপিএম—তিন শক্তির সমীকরণে এবার ত্রিমুখী লড়াই হলেও , মূলত লড়াই বিজেপি এবং তিপ্রামথার মধ্যে । নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগেই শক্তিবৃদ্ধি হল তিপ্রমথার। বুধবার ত্রিপুরার দক্ষিণ জেলার শান্তির বাজার মহকুমার অন্তর্গত ২২ কাঠালিয়া রাজাপুর মির্জা নির্বাচনী এলাকায় বিজেপি এবং সিপিআইএম শিবিরে একটি বড় ধরনের বিভেদ দেখা দিয়েছে। সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত এলাকায় তিপ্রামথা পার্টির এই শক্তিশালী হওয়া আসন্ন এডিসি নির্বাচনে একটি নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে এই এডিসি নির্বাচনী এলাকায় তিপ্রামথা পার্টির পক্ষে জনমত তৈরি হচ্ছিল। পাতিছড়ি মুসলিম পাড়ায় আয়োজিত একটি যোগদান অনুষ্ঠানে তারই চূড়ান্ত প্রতিফলন দেখা গেছে। এই দিনে, মোট ১৫টি পরিবারের ৪৬ জন ভোটার বিজেপি এবং সিপিআইএম-এর আদর্শ ত্যাগ করে তিপ্রামথা দলে যোগ দিয়েছেন। দলের মনোনীত প্রার্থী ডেভিড মুড়াসিং নবাগতদের হাতে দলের পতাকা তুলে দেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের স্বাগত জানান।
সম্প্রতি এডিসি নির্বাচনী সভা থেকে এরাজ্যের তৃণমূল ও তিপ্রামোথাকে এক ব্র্যাকেটে ফেলে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন এই দুই দলেরই এক বৈশিষ্ট মানুষকে ভয় দেখানো আর মারপিট করা। তারই পাল্টা দেন তিপ্রামথা প্রার্থী ডেভিড মুড়াসিং।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন এডিসি নির্বাচনের ঠিক আগে মুসলিম-প্রধান এই এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষের যোগদান তিপ্রামথা দলের জন্য একটি বড় মাইলফলক। ঐতিহ্যগতভাবে বিজেপি বা বামদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় তিপ্রামথা দলের প্রবেশ বিরোধীদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। মনে করা হচ্ছে, বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটারদের কাছ থেকে পাওয়া এই সমর্থনই তিপ্রামথা দলের প্রার্থী ডেভিড মুরাসিং-এর আসন্ন পার্বত্য নির্বাচনে জয়ের পথ প্রশস্ত করেছে।
দক্ষিণ জেলা শান্তির বাজারের পাশাপাশি ত্রিপুরা উত্তর জেলা কাঞ্চনপুরে তিপ্রামথা দলের শক্তিবৃদ্ধি ! প্রার্থী উমাশঙ্কর রিয়াং-এর সমর্থনে বিশাল যোগদান সভা !
আগামী ১২ এপ্রিল ত্রিপুরায় এডিসি ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনকে সামনে রেখে বুধবার উত্তর জেলা কাঞ্চনপুর মহকুমায় নিজেদের রাজনৈতিক জমি আরও শক্ত করল তিপ্রামথা দল। দশমনি ভিলেজ এলাকায় দশদা-কাঞ্চনপুর ৩ নং আসনের তিপ্রামথা দলের মনোনীত প্রার্থী উমাশঙ্কর রিয়াং-এর সমর্থনে এক গুরুত্বপূর্ণ যোগদান সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই যোগদান সভায় বিরোধী সিপিআইএম, বিজেপি এবং আইপিএফটি দল ত্যাগ করে ১৫টি পরিবারের মোট ৫০ জন ভোটার তিপ্রামথা দলের পতাকা হাতে নিয়ে দলে শামিল হন। নবাগতদের হাতে তিপ্রামথা দলের দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে তাঁদের সবাইকে দলে বরণ করে নেন প্রার্থী উমাশঙ্কর রিয়াং।সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রার্থী উমাশঙ্কর রিয়াং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, আগামী ১২ই এপ্রিলের নির্বাচনে এই আসনে তিপ্রামথা দলের জয় নিশ্চিত। প্রতিদিন সকাল থেকে তিপ্রামথা দলের কর্মীরা যেভাবে জনসম্পর্ক অভিযান চালাচ্ছেন এবং বিভিন্ন দল ছেড়ে মানুষ যেভাবে তিপ্রামথায় যোগ দিচ্ছেন, তাতে জয়ের ব্যাপারে তিনি ১০০ শতাংশ আশাবাদী।
১২ তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, ১৭ তারিখে হবে ফলাফল ঘোষণা। রাজ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ এডিসির অধীনে। উপজাতি এলাকায় যে দলের আসন থাকে, ৬০ সদস্যের বিধানসভার ২০টি উপজাতি সংরক্ষিত আসনে তাদেরই প্রভাব থাকে এবং সেই দলই বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। তাই স্থানীয় নির্বাচন হলেও মাত্র দুবছর পরই যে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে, সে রাজ্যের জন্য এডিসি নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর নির্বাচনের মাত্র কিছুদিন আগে তিপ্রমাথায় এই যোগদান ত্রিপুরার পার্বত্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল বলে নত রাজনৈতিক মহলের।