সংসদ কাঁপালেন সায়নী ঘোষ !

তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সংকোচন, বিরোধীদের কণ্ঠরোধ এবং সংসদে আলোচনার পরিসর কমে যাওয়ার অভিযোগ।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : তাঁর ধনুক থেকে বের হওয়া এক একটা তির যেন একেবারে লক্ষ্যে গিয়ে বিঁধছিল। কার্যত যেন সেই অর্জুনের মতো। দেখেই মনে হবে তিনি প্রচন্ড আক্রমনাত্মক। বিরোধীদের প্রত্যেককে চুপ করে দেওয়ার মতো ক্ষমতা তাঁর রয়েছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে একাধিক ইস্যু। বিরোধীদের কণ্ঠরোধ, কেন্দ্রের নীতির সমালোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শুরু থেকেই এদিন তিনি ছিলেন আক্রমনাত্মক। ঠিক যেন অগ্নিকন্যার মতো। আগুনের গোলার মতো শুনতে লাগছিল তাঁর এক একটা পয়েন্ট। তাঁর ভাষণের সময় নীরবতা বজায় রাখতে দেখা যায় কেন্দ্রের দুই শীর্ষ নেতা অমিত শাহ এবং নরেন্দ্র মোদী-কে। শুরু থেকেই আক্রমণের সুর চড়িয়ে সায়নী ঘোষ প্রশ্ন তোলেন কেন্দ্রের একাধিক নীতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সংকোচন, বিরোধীদের কণ্ঠরোধ এবং সংসদে আলোচনার পরিসর কমে যাওয়ার অভিযোগ। কড়া ভাষায় তিনি দাবি করেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করানো হচ্ছে। শুক্রবার সংসদে যাকে কার্যত অগ্নিকন্যার মতো লাগল, যার ঝাঁঝ দেখল সংসদের বাকি সাংসদরা। তিনি হলেন সায়নী ঘোষ।

অভিনেত্রী থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা সায়নী ঘোষ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ। তিনি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের একজন সক্রিয় সদস্য এবং বর্তমান সংসদ সদস্য। ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। তিনি আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন, তবে বিজেপির অগ্নিমিত্রা পালের কাছে পরাজয় হয়। ২০২১ সালের জুন মাসে তাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরসূরি হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি নিযুক্ত। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ। শুক্রবার সেই বাংলার মেয়েকে সংসদে দেখা গেল অন্য রূপে। ভাষণের প্রথম দিকে বিরোধীদের বিরোধিতাকে অগ্রাহ্য করতে তাঁর মুখে উঠে এল রবীন্দ্রনাথের যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে একলা চলো রে গানের কলি। বা কখনও সম্বল করেছেন সাহেরির।

সায়নী এদিন বলেন শাসক দল দেশের ভালো কী করবেন? দলের সাংসদরাই তো নিজেদের মধ্যে লড়াই করছেন?প্রশ্ন করেন কেন এতদিন ডেপুটি স্পিকারের চিয়ার ফাঁকা রয়েছে? সংসদ কতদিন চলেছে, আর কতদিন বন্ধ রয়েছে, সেই তালিকাও উঠে আসে তাঁর বক্তৃতায়।

বর্তমানে রেল বাজেটে কী কী খামতি রয়েছে । আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময় কী রকম রেল বাজেট হত। সেই প্রসঙ্গও উঠে আসে সায়নী ঘোষের বক্তৃতায়।

অনেক চেষ্টার পরেও মহিলা সংরক্ষণ এবং লোকসভায় আসনবৃদ্ধি সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল লোকসভায় পাশ করাতে পারেনি কেন্দ্র। বিতর্ক পর্ব শেষে শুক্রবার বিকেলে বিল নিয়ে ভোটাভুটি হয়। বিলের পক্ষে পড়ে ২৯৮টি ভোট। বিপক্ষে ২৩০টি। বিল পাশের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন ছিল, তা পায়নি মোদী সরকার। তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ভোলেননি সায়নী।

সংসদে বিরোধীদের কন্ঠরোধ করা হয়। সংসদের ভিতরে বললে সাসপেন্ড করা হয়। বাইরে বললে ইডি , সিবিআই পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে বিজেপির বুলডোজারের সঙ্গে তুলনা করেছেন বঙ্গকন্যা সায়নী।

সরাসরি সরকারকে জবাবদিহির কাঠগড়ায় দাঁড় করান সাংসদ। তখনই সংসদে একপ্রকার নীরবতা নেমে আসে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই নীরবতাই ইঙ্গিত দেয় বক্তৃতার তীব্রতার দিকে। সায়নী ঘোষের বার্তা ছিল স্পষ্ট। এই লড়াই শুধুই রাজনৈতিক নয়, বরং সাধারণ মানুষের অধিকারের প্রশ্ন। তাঁর এই আক্রমণাত্মক অবস্থান যে আগামী দিনে রাজনৈতিক তরজাকে আরও তীব্র করবে, তা বলাই যায়।