স্ট্রংরুম : মমতা-শুভেন্দুর অভিযোগে তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কারচুপির অভিযোগ, পাল্টা দাবি তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ভোট মিটতেই ফল ঘোষণার দিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। এরইমধ্যে ভবানীপুরের স্ট্রং রুম ঘিরে রাজনৈতিক তরজা চরমে। একদিকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কারচুপির অভিযোগ, অন্যদিকে কড়া পাল্টা দাবি তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুক্রবার তিনি জানান, ভবানীপুরে স্ট্রং রুমে কড়া নজরদারি চলছে এবং নিয়ম মেনেই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে।

এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, তৃণমূল প্রার্থী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে “কঠোর নজরদারিতে” রাখা হয়েছিল। তাঁর কথায়, “ভোটারদের আশ্বস্ত করতে চাই, কোনওভাবেই নিয়মবহির্ভূত কাজের সুযোগ দেওয়া হয়নি।” তিনি আরও জানান, তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট অ্যাডভোকেট সূর্যনীল দাস স্ট্রং রুম চত্বরে উপস্থিত থেকে সমস্ত কিছু পর্যবেক্ষণ করেছেন, যাতে কোনও রকম অনিয়ম না ঘটে।

এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও কয়েকগুণ বেড়েছে। কারণ এর ঠিক আগের রাতেই আচমকা ভবানীপুরের স্ট্রং রুমে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে প্রায় কয়েক ঘণ্টা কাটিয়ে বেরিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে ইভিএমে কারচুপির খবর আসছে। তাঁর দাবি, “সিসিটিভিতে যা দেখলাম, তাতেই সন্দেহ হয়েছে। তাই নিজে এসে খতিয়ে দেখলাম।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও অভিযোগ, প্রথমে কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁকে স্ট্রং রুমের ভিতরে ঢুকতে দেয়নি। যদিও নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থী বা তাঁর এজেন্ট নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত যেতে পারেন। তিনি বলেন, “আমাদের এজেন্টদের সঙ্গে একতরফা আচরণ করা হচ্ছে। কোথাও গ্রেফতারও করা হয়েছে। তারপরও যদি কেউ ইভিএম বা গণনায় কারচুপি করার চেষ্টা করে, আমরা জীবন দিয়ে লড়াই করব।”

স্ট্রংরুম নিয়ে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের মধ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে আগেই জানানো হয়েছে, সমস্ত নিয়ম মেনেই স্ট্রং রুমে নিরাপত্তা ও নজরদারি বজায় রাখা হচ্ছে।

ভোট-পরবর্তী এই টানটান পরিস্থিতিতে স্পষ্ট, ফল ঘোষণার আগেই রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র আকার নিয়েছে। কারণ ভবানীপুরের স্ট্রং রুম এখন কার্যত রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু।