শনিবার জরুরি শুনানিতে সর্বোচ্চ আদালত কোনও নির্দেশ জারি না করায় কার্যত বহাল থাকল কলকাতা হাই কোর্টের পূর্ববর্তী রায়।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা ঘিরে আইনি টানাপড়েনের মধ্যে আপাতত স্বস্তি পেল নির্বাচন কমিশন। শনিবার জরুরি শুনানিতে সর্বোচ্চ আদালত কোনও নির্দেশ জারি না করায় কার্যত বহাল থাকল কলকাতা হাই কোর্টের পূর্ববর্তী রায়। ফলে গণনার দায়িত্বে কেন্দ্রীয় ও রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থার কর্মীদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা এই মুহূর্তে থামল বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
এই মামলায় সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ ছিল, ভোটগণনার সুপারভাইজার হিসেবে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগের নির্দেশ পক্ষপাতদুষ্ট এবং এতে স্বচ্ছতা বিঘ্নিত হতে পারে। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধেই চ্যালেঞ্জ জানানো হয়। তবে কলকাতা হাই কোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপরই তড়িঘড়ি শীর্ষ আদালতে যায় রাজ্যের শাসকদল।
শনিবার বিশেষ বেঞ্চে বিচারপতি পি এস নরসিমা এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। ভোটগণনা শুরু হতে আর মাত্র দু’দিন বাকি থাকায় দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়েছিলেন আবেদনকারী। তাদের দাবি ছিল, এখনই নির্দেশ না দিলে পুরো বিষয়টি অর্থহীন হয়ে যাবে। তবে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত কোনও নতুন নির্দেশ দিতে অস্বীকার করে।
শুনানির সময় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী আদালতকে জানান, ১৩ এপ্রিল জারি করা নির্দেশিকা সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করা হবে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, গণনার প্রতিটি টেবিলে অন্তত একজন কেন্দ্রীয় বা কেন্দ্রীয় পাবলিক সেক্টরের কর্মী থাকবেন, তবে রাজ্য সরকারি কর্মীরাও এতে যুক্ত থাকবেন। এই বক্তব্য নথিভুক্ত করে আদালত মামলাটি নিষ্পত্তি করে দেয়।
এদিকে, এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন বিজেপি নেতা অমিত মালব্য। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে যে গণনা প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরির চেষ্টা সহজে গ্রহণযোগ্য হবে না। পাশাপাশি তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের এই আইনি পদক্ষেপকে ‘আরও একটি ব্যর্থতা’ বলেও কটাক্ষ করেন।
উল্লেখ্য, ৪ মে রাজ্যে ভোটগণনা শুরু হওয়ার কথা। তার আগে এই রায়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর নতুন মাত্রা পেল। যদিও নির্বাচন কমিশন আশ্বস্ত করেছে, সমস্ত প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবেই সম্পন্ন হবে।