বঙ্গে গেরুয়া ঝড়!

প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী, বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: বিধানসভা নির্বাচনের গণনা ঘিরে ক্রমেই চড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী, বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে পিছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে, বিজেপি ১২১টি আসনে এগিয়ে, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে ৭১টি আসনে। তাদের সহযোগী দল বিজিপিএম একটি আসনে লিড করছে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের এক্সিট ট্রেন্ডের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ২৯৪ আসনের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৮-এর গণ্ডি পেরিয়ে বিজেপি প্রায় ১৬০ আসনে পৌঁছতে পারে। অন্যদিকে তৃণমূলের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ১২০-এর আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। এই পরিস্থিতি কার্যত বাংলায় প্রথমবার বিজেপি সরকারের সম্ভাবনাকে জোরালো করছে।

এদিকে, নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। গণনা কেন্দ্রের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “বিজেপি সরকার গঠন করতে চলেছে। প্রাথমিক প্রবণতায় আমরা ১৩৫-এর বেশি আসনে এগিয়ে। তৃণমূল প্রায় ১০০-র মধ্যে থাকবে।” ভবানীপুর প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, প্রথম দিকে কিছু মুসলিম অধ্যুষিত বুথে তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও পরবর্তী রাউন্ডে পরিস্থিতি বদলাবে বলে তাঁর দাবি।

শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটের সামাজিক সমীকরণের পরিবর্তন হতে চলেছে। তাঁর মতে, “ হিন্দু ভোট একজোট হয়েছে পদ্মের পক্ষে। পাশাপাশি মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুরে মুসলিম ভোটেও বিভাজন দেখা গিয়েছে।”

উল্লেখযোগ্য বিষয়, এবারের নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল নজিরবিহীন। দ্বিতীয় দফায় ৯১.৬৬ শতাংশ এবং প্রথম দফায় ৯৩.১৯ শতাংশ ভোট পড়ে। মোট গড় ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৯২.৪৭ শতাংশে—যা স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২১৩টি আসন জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। অন্যদিকে বিজেপি ৭৭টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে আসে। তবে এবারের প্রবণতা বাংলার রাজনীতিতে এক সম্ভাব্য পালাবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।