নবান্ন না মহাকরণ? কোথায় বসবেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী?

“শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলে প্রশাসনকে গঙ্গার এপারে ফিরিয়ে আনা হবে। “

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে, কিন্তু প্রশাসনের ‘ঠিকানা’ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি এখনও। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আগেই জানিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলে প্রশাসনকে গঙ্গার এপারে ফিরিয়ে আনা হবে। অর্থাৎ নবান্ন নয়, আবার ঐতিহ্যবাহী রাইটার্স বিল্ডিং বা মহাকরণ থেকেই চলবে রাজ্য সরকার। কিন্তু বাস্তব বলছে, সেই পরিকল্পনা এখনই কার্যকর করা সম্ভব নয়।

২০১৩ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনকে নবান্নে সরিয়ে নেওয়ার পর থেকেই মহাকরণের সংস্কার শুরু হয়। দীর্ঘ সময় পেরোলেও এখনও সম্পূর্ণ হয়নি সেই কাজ। ফলে নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক কোথায় হবে—তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

বুধবার শমীক ভট্টাচার্য জানান, প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের স্থান এখনও চূড়ান্ত হয়নি। মহাকরণের মেইন ব্লক সহ একাধিক অংশে কাজ বাকি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে নবান্ন কিংবা বিধানসভার অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ের নাম উঠে আসছে। সূত্রের খবর, এ দিন রাজ্যের মুখ্যসচিব বিধানসভার সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেই সূত্র ধরেই জোর জল্পনা—প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক হতে পারে বিধানসভার অ্যানেক্স ভবনেই।

মহাকরণের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করলে সংশয়ের কারণ স্পষ্ট। ১ ও ২ নম্বর ব্লকের সংস্কার শেষ হলেও সেখানে আপাতত পূর্ত দফতরের কিছু দফতর কাজ করছে। কিন্তু ৩, ৪, ৫ ও জি ব্লকের কাজ এখনও অসম্পূর্ণ। যে মেইন ব্লকে মুখ্যমন্ত্রীর বসার কথা, সেখানেও মাত্র ২৫-৩০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের মতে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ এগোলেও পুরোপুরি ব্যবহারযোগ্য হতে আরও অন্তত তিন মাস সময় লাগবে।

গত দু’দিন ধরে পূর্ত দফতর ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা একাধিকবার মহাকরণ পরিদর্শন করেছেন। কীভাবে দ্রুত কাজ শেষ করে প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সেখানে ফিরিয়ে আনা যায়, তা নিয়েই চলছে পরিকল্পনা। তবে ততদিন নবান্ন বা বিধানসভাই কার্যত প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে।

এ দিন নবান্নে বৈঠক সেরে বেরিয়ে রাজনৈতিক বার্তাও দেন শমীক। তাঁর দাবি, “বিজেপির তৃণমূলীকরণ হবে না।” পাশাপাশি অভিযোগ করেন, কিছু তৃণমূল কর্মী গেরুয়া আবির মেখে ভাঙচুর করছেন। স্পষ্ট বার্তা দেন, এ ধরনের কাজ বরদাস্ত করা হবে না—দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ভয়ের পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। এই জয় মানুষের জয়।”

প্রশাসনিক সদর দফতরের ভবিষ্যৎ ঠিকানা এবং প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের স্থান কোনটা হতে চলেছে —এখন এই দুই প্রশ্নের উত্তরের দিকে নজর রাজ্যবাসীর।