বিরোধীদের জোট বাঁধার বার্তা মমতার

“বাম, অতিবাম, যে কোনও জাতীয় দল, যে যেখানে আছেন, আসুন আমরা জোট বাঁধি।”

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : দলের বিপর্যয়। এই খারাপ সময়ে দলের পাশে না থেকে বিষোদাগার করতে ব্যস্ত তৃণমূল নেতাদের একাংশ। ঠিক যেন উল্টে দেখ পাল্টে গেছির মতোই শোনাচ্ছে। দলের ভরাডুবির পর সবাই একযোগে পরিবারতন্ত্র ও কর্পোরেট রাজনীতিকে দোষী করছেন। সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুলছেন। দলবিরোধী মন্তব্যের জন্য ইতিমধ্যেই পাঁচজনকে শোকজ করেছে তৃণমূল। কিন্তু তাতেও তো রাশ টানা যাচ্ছে না। তবে কি আখের গোছাতেই একে একে মুখ খুলছেন তৃণমূল নেতারা। বিজেপির সঙ্গে কি তলে তলে যোগাযোগ শুরু। এই তালিকায় কে কে রয়েছেন। তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

গত বুধবার জোড়াফুলের বিজয়ী প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন যে, দলবিরোধী মন্তব্য কেউ করলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। সেই মতো পাঁচ সদস্যের একটি শৃঙ্খলারক্ষা কমিটিও তৈরি করা হয়েছিল। সেই কমিটি শুক্রবার দলবিরোধী মন্তব্যের দায়ে দলের নেতা ও মুখপাত্র মিলিয়ে পাঁচজনকে শো-কজ় করেছে। তৃণমূল সুপ্রিমো আগে থেকেই আঁচ করেছেন ঘর ভাঙবেই। তাই তিনি আগে ভাগেই বার্তা দিয়ে দিয়েছেন। কিন্ত কে শোনে কার কথা। একের পর এক বোমা ফাটিয়ে যাচ্ছেন দলের নেতা-নেত্রীরা। এই যেমন ফিরহাদ হাকিমের মেয়ে প্রিয়দর্শিনী হাকিম…। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাউন্টিং এজেন্টের দায়িত্বে থাকা প্রিয়দর্শিনী হাকিম বিস্ফোরক পোস্ট ঘিরে জল্পনা। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা। মহাভারতের চরিত্র ‘ধৃতরাষ্ট্র’ ও ‘দুর্যোধন’-এর উল্লেখ করে তিনি যে বার্তা দিয়েছেন, তা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেই উঠেছে নানা প্রশ্ন। প্রিয়দর্শিনী তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘চোখে ঠুলি বেঁধে থেকো না। কান দিয়ে দেখো না।’ পাশাপাশি ধৃতরাষ্ট্র ও দুর্যোধনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি কার্যত অন্ধ পক্ষপাত এবং পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতির বিরুদ্ধে বার্তা দিয়েছেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও কোথাও সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করেননি তিনি, তবুও অনেকের ধারণা— এই মন্তব্যের নিশানায় রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের এই খারাপ সময়ে কেন এই রকম পোস্ট ফিরহাদ হাকিমের মেয়ের। তবে কি তিনিও অন্যান্য তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে একই পথের পথিক। প্রিয়দর্শিনীর মতো অনেকেই হাঁসফাঁস করছেন দলে। কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন কেউ সুযোগ খুঁজছেন। আর কে কে এই দলে..।


সুপ্রিয় চন্দ। উত্তরবঙ্গের এই তৃণমূল নেতা আইপ্যাক ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুলেছেন। উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের বির্যয়ের কারণ হিসাবে আইপ্যাকের কর্মী থেকে নিতি নির্ধারণ নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর মুখে বিজেপিরই গুনগান।


২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে ফরাক্কা থেকে তাঁকে টিকিট দেয়নি দল। পরিবর্তে সামশেরগঞ্জের আমিরুল ইসলামকে প্রার্থী করে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। শুরুতেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেও পরে ‘ চাপের মুখে ‘ দলের বিরুদ্ধে সুর নরম করেন মনিরুল। কিন্তু রাজ্যে বিজেপির অভাবনীয় সাফল্যের পর এবার কার্যত দলের বিরুদ্ধেই তোপ দাগলেন তিনি। বিজেপি সরকারকে নৈতিক সমর্থন জানিয়ে মনিরুলের সাফ কথা, পশ্চিমবাংলায় অহংকার আর ঔদ্ধত্বের পতন হয়েছে। ক্ষমতা কখনও চিরস্থায়ী নয়, এটা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বোঝেননি। বিজেপির দিকে ঝোল টেনে কি বার্তা দিতে চাইছেন মনিরুল। তবে কি এবার অন্য ফুলে ছাপ?

অতীন ঘোষও মুখ খুলেছেন। কাশিপুর-বেলগাছিয়া আসন থেকে বিজেপি প্রার্থী রিতেশ তিওয়ারির কাছে পরাজিত হয়েছেন তিনি। অতীন ঘোষও অভিষেকের কর্পোরেট রাজনীতি নিয়ে সরব হয়েছেন। অতীন ঘোষ এমন এক নেতা যিনি মমতা ঘনিষ্ট পাশাপাশি তৃণমূলের পুরনো সৈনিক তিনিও এভাবে প্রকাশ্যে মন্তব্য করায় দলের অন্দরে অস্বস্তি বেড়েছে। এই দলে নাম লিখিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীও। সবাই একজোটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্পোরেট নীতিকে তুলোধনা করেছেন। তবে কি দিদির দলে ভাঙন নির্ধারিত। রাস্তায় নেমে লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কাদের নিয়ে লড়াই করবেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছের নেতাদের পাশে পাবেন তো। ২৫ শে বৈশাখ কবিগুরুর জন্মদিন পালন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার ব্রিগেডের মাঠে শপথগ্রহণ করেছেন বিজেপি সরকারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই দিনে বিকেলে কালীঘাটে নিজের বাড়িতে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করেন তৃণমূলনেত্রী। সেখান থেকেই এই জোটের জন্য তিনি আহ্বান জানান। মমতা বলেন, চারদিকে সন্ত্রাসের বজ্রাঘাত চলছে। আমি সমস্ত রাজনৈতিক দল, ছাত্র-যুব সংগঠন, এনজিও-কে বলব জোট বাঁধুন। আমরা বিজেপির বিরুদ্ধে একটা মঞ্চ গড়তে চাই। মমতা আরও বলেন, বাম, অতিবাম, যে কোনও জাতীয় দল, যে যেখানে আছেন, আসুন আমরা জোট বাঁধি।

অতএব এখন দেখার তৃণমূলে কতজন নেতার অক্সিজেনের অভাব হয়। কতজন অক্সিজেন সিলিন্ডারের খোঁজে বিজেপিতে যান। কতজন নেত্রীর সঙ্গে আন্দলন জিইয়ে রাখতে রাস্তায় নামেন।