“বিধানসভা অধিবেশন লাইভ হবে”

স্পিকার নির্বাচিত হলেন রথীন্দ্রনাথ বোস। তারপরই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : প্রত্যাশামতোই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অষ্টাদশ বিধানসভার স্পিকার নির্বাচিত হলেন শাসকদলের মনোনীত প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বোস। শুক্রবার বিধানসভায় তাঁর নাম প্রস্তাব করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বিরোধী শিবির কোনও প্রার্থী না দেওয়ায় ধ্বনিভোটে স্পিকার পদে নির্বাচিত হন রথীন্দ্র। পরে তাঁকে স্পিকারের আসনে বসিয়ে স্বাগত জানান প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়।

স্পিকার নির্বাচনে বিরোধীদের ‘সহযোগিতার’ জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিধানসভার ঐতিহ্য বজায় রেখেই বিরোধীরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শাসকদলের তরফে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল-সহ বিজেপি বিধায়করা রথীন্দ্রর নাম সমর্থন করেন। নতুন স্পিকারকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, তাঁর নেতৃত্বে বিধানসভার মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে।

তবে দিনের আসল চমক ছিল মুখ্যমন্ত্রীর আর এক ঘোষণা। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু জানিয়ে দেন, ভবিষ্যতে বাজেট-সহ গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। তাঁর কথায়, “জনগণ যাতে নিজেদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাজকর্ম নিজের চোখে দেখতে পারেন, সেই ব্যবস্থাই করা হবে।” একই সঙ্গে বিরোধীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, সরকার চায় না বিধানসভার নির্ধারিত কর্মসূচি অহেতুক অচলাবস্থার শিকার হোক।

শুভেন্দুর কথায়, “বিধানসভা মারামারির জায়গা নয়।” অতীতের নানা ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কোনও বিরোধী নেতাকে যেন দীর্ঘদিন সাসপেন্ড হয়ে হাউসের বাইরে থাকতে না হয় কিংবা কোনও বিধায়ককে রক্তাক্ত অবস্থায় বিধানসভা ছাড়তে না হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন তাঁর সাসপেনশন এবং বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের উপর হামলার ঘটনাকেই সামনে আনতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এ দিন বিরোধীদের জন্য আরও বেশি বক্তব্য রাখার সুযোগের আশ্বাসও দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, “বিজেপি গণতন্ত্র এবং বাক্‌স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। হাউস বিরোধীদেরও।” সংখ্যায় কম হলেও বিরোধীরা যাতে পর্যাপ্ত সময় পায়, সেই বিষয়ে সরকার আগের ‘৫০-৫০’ নীতিতেই অনড় থাকবে বলেও জানান তিনি।

নতুন সরকারের প্রথম অধিবেশনেই মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একদিকে বিধানসভার কার্যক্রমে স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে বিরোধীদের জন্য তুলনামূলক বেশি রাজনৈতিক পরিসর— দুই মিলিয়ে নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দেখছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।