ভরাডুবির পর কর্মীদের কী বার্তা দিলেন অভিষেক ?

হার মানলেও এই ফলকে কোনওভাবেই নৈতিক পরাজয় হিসাবে মানতে নারাজ ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।

শুভঙ্কর চট্টোপাধ্যায়, সাংবাদিক : রাজ্যে পালাবদলের ঝোড়ো হাওয়ায় তৃণমূলের অপ্রত্যাশিত হারের পর অবশেষে মৌনভঙ্গ করলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বার্তায় তিনি সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন য়ে, মানুষের রায় নয় বরং গণনা কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে ভোট লুট করেছে বিজেপি। হার মানলেও এই ফলকে কোনওভাবেই নৈতিক পরাজয় হিসাবে মানতে নারাজ ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তাঁর সাফ কথা, ১০০-র বেশি আসনে তৃণমূলের জয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
হারের পর তৃণমূল কর্মীদের মনে যে হতাশা তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতে অভিষেক বলেন ৪ মে গণনার দিন তৃণমূলের প্রার্থী ও এজেন্টদের ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরাই কার্যত গণনা নিয়ন্ত্রণ করেছেন।ইভিএমে কীভাবে ৯০ শতাংশের ওপর চার্জ থাকল, সেই নিয়েও ভিডিও বার্তায় সন্দেহ প্রকাশ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই অবিচারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

ভিডিও বার্তায় তৃণমূল সাংসদ দাবি করেন, ভোট পরবর্তী হিংসায় ১০ জন তৃণমূল কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট লুটের অভিযোগ তুলে অভিষেক বলেন, এবারের নির্বাচনে যেভাবে ভোট লুট করা হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস এ রায় মানুষের হতে পারে না। অভিষেকের বক্তব্য, যারা লুট করে ক্ষমতা এসেছে,তারা ক্ষমতায় বেশিদিন টিকবে না। যারা মানুষের আদেশকে প্রভাবিত করেছে। তারা বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। গণনার সঠিক তথ্য সামনে আনার দাবি তুলে ভিডিওতে ফের সরব হন তিনি। এছাড়া যে সমস্ত তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী, সমর্থক ভোটের ফল বেরনোর পর ঘরছাড়া রয়েছেন, তাদের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়।

সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম সংগ্রামে কথা স্মরণ করিয়ে ভিডিওতে অভিষেক তৃণমূল কর্মীদের হার না মানা লড়াইয়ের আহ্বান জানান। এই পরিস্থিতিকে অগ্নিপরীক্ষা বলে দাবি করে তিনি বলেন, সোনা আগুনে পুড়ে খাঁটি হয়। তৃণমূলের সর্বস্তরের সংগঠন, কর্মীদের এই অগ্নিপরীক্ষার মধ্যে দিয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে হবে।

বৃহস্পতিবারই ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। ভিডিও বার্তায়, তৃণমূল কর্মীদের একজোট হয়ে লড়াইয়ের বার্তা দিয়ে অভিষেক বলেন, নতুন করে দলীয় কার্যালয়গুলি পুনরুদ্ধার করতে হবে। বিজেপির অত্যাচারের বিরুদ্ধে তৃণমূল কর্মীদের প্রতিবাদের ডাক দেন তিনি। প্রয়োজনে কর্মীরা ডাকলে সেখানে যাবেন বলেও আশ্বাস দেন তৃণমূলের সেকেন্ড ম্যান ইন কমান্ড।
অভিষেক আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, যারা মানুষের রায় নিয়ে কারচুপি করেছে, তারা খুব বেশিদিন টিকবে না। নির্বাচনের পর যে হিংসায় কর্মীদের প্রাণ গিয়েছে, তাঁদের পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকারও করেছেন তিনি। এখন দেখার, আইনি লড়াইয়ের যে হুঁশিয়ারি অভিষেক দিলেন, তাতে পাহাড়-প্রমাণ কোনও তথ্যপ্রমাণ তিনি পেশ করতে পারেন কি না। তবে হারের ধাক্কা সামলে ময়দান ছাড়তে যে তিনি নারাজ, তা এই বার্তাতেই স্পষ্ট।