“লোকসভার ভিতরে বারবার মৌখিক নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছে। ”

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : লোকসভায় দলেরই সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘বারবার মৌখিক নিগ্রহ’-এর অভিযোগ তুলে স্পিকার ওম বিড়লার দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। একই সঙ্গে, দলের মধ্যে ‘নারীবিদ্বেষী আচরণ’ রুখতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে সর্বভারতীয় তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রীর পদ-সহ সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকেও ইস্তফা দিলেন তিনি। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
লোকসভার স্পিকারকে লেখা চিঠিতে কাকলি অভিযোগ করেছেন, দলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে বারবার লোকসভার ভিতরে মৌখিক ভাবে অপমান করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এই আচরণ কেবল তাঁর ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, একাধিক মহিলা সাংসদের প্রতিও একই ধরনের ব্যবহার করা হয়েছে। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “লোকসভার ভিতরে বারবার মৌখিক নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছে। এই বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে আপনার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানোর অনুমতি প্রার্থনা করছি।”
কাকলির অভিযোগ, বিষয়টি নিছক ব্যক্তিগত বিবাদ নয়, এর মধ্যে রয়েছে নারীদের প্রতি অবমাননাকর মানসিকতা। স্পিকারকে লেখা চিঠিতে তিনি আরও দাবি করেছেন, “এই নারীবিদ্বেষী আচরণ বহু মহিলা সদস্যের বিরুদ্ধেই হয়েছে এবং এর শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।”
একই দিনে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লেখা ইস্তফাপত্রে কাকলি জানান, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তৃণমূল তাঁকে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা তাঁর বিবেককে নাড়া দিয়েছে। সেই কারণেই তিনি দলের মহিলা সংগঠনের সভানেত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইস্তফাপত্রে কাকলি লেখেন, “গভীর মানসিক দ্বন্দ্ব ও দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পরে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলাম।” তাঁর দাবি, দায়িত্বে থাকার সময়েও মহিলা সাংসদদের বিরুদ্ধে এক জন ‘শিক্ষিত সাংসদ’-এর নারীবিদ্বেষী আচরণ বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় সহমর্মিতা বা সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
যদিও কাকলির অভিযোগ নিয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল নেতৃত্বের তরফেও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে দলের এক সাংসদের বিরুদ্ধে আর এক সাংসদের এই প্রকাশ্য অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মহিলা সংগঠনের শীর্ষ নেত্রীর পদত্যাগ তৃণমূলের অন্দরের অস্বস্তিকেই সামনে এনে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।