ভোটে ভরাডুবির পর ফের ময়দানে অভিষেক

ভোট-পরবর্তী হিংসায় বিধ্বস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে রাজ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হল। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, তিনি শীঘ্রই ভোট-পরবর্তী হিংসায় বিধ্বস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করবেন। একই সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা, ভাঙচুর ও ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলে বিজেপিকে নিশানা করেছে শাসকদল।

তৃণমূলের অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের একাধিক জেলায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আরও দাবি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন সাংগঠনিক জেলায় গত ১৬ মে বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীরা তৃণমূলের জেলা পার্টি অফিসে হামলা চালিয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং হার্ড ডিস্ক, যাতে ঘটনার প্রমাণ নষ্ট করা যায়। শুধু তা-ই নয়, তৃণমূলের অভিযোগ, স্থানীয় বিধায়কদেরও প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে যে পুলিশে অভিযোগ জানাতে গেলে তাঁদের বাড়িতেও হামলা চালানো হবে। দলের কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও বাড়ির ভিতরে ঢুকে ভয় দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ।

এই আবহেই দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারি এলাকায় সাঁওতাল বিদ্রোহের দুই ঐতিহাসিক নেতা সিধু ও কানহু মুর্মুর মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন অভিষেক। সমাজমাধ্যম এক্স-এ তিনি লেখেন, এই ঘটনা শুধু ভাঙচুর নয়, আদিবাসী সমাজের গৌরব, ইতিহাস ও পরিচয়ের উপর সরাসরি আঘাত। তিনি অভিযোগ করেন, যাঁরা আদিবাসী কল্যাণের নামে ভোট চান, তাঁরাই এই ধরনের ঘটনায় নীরব থাকেন। অভিষেকের দাবি, বাংলার মানুষ এই ধরনের বিদ্বেষের রাজনীতি মেনে নেবে না এবং দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে।

অন্য দিকে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন কলকাতার ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ সিদ্ধ নাথ গুপ্ত। তাঁর বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত ৩০০-রও বেশি গ্রেফতারি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৩ জনকে নির্দিষ্ট মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ১১০০-রও বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এর ফলে পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হয়েছে।

একই সঙ্গে এক সাংসদের জেড প্লাস নিরাপত্তা প্রত্যাহার নিয়ে ওঠা বিতর্কেও মুখ খুলেছেন ডিজিপি। তিনি জানান, অতিরিক্ত ও প্রোটোকল বহির্ভূত নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ‘ইয়েলো বুক’ অনুযায়ী বাধ্যতামূলক জেড প্লাস নিরাপত্তা বহাল রয়েছে।