অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে কড়াকড়ির পিছনে কারণ বাতলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : অন্নপূর্ণা যোজনার অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। বুধবার থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর কাজ শুরু হবে বলে জানাল রাজ্য সরকার। তবে আবেদনপত্রে অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া এবং দীর্ঘ ফর্ম পূরণ নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার জবাবে পূর্ববর্তী সরকারের আমলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে প্রচুর জালিয়াতি হয়েছে। ইতিমধ্যেই ২২টি ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, পুরুষেরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন। সেই সংখ্যা আরও বাড়বে।’’ তাঁর দাবি, এই ধরনের অনিয়ম রুখতেই অন্নপূর্ণা যোজনার ক্ষেত্রে কড়া যাচাই-বাছাইয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যদিও সাধারণ উপভোক্তাদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘‘চিন্তার কোনও কারণ নেই। যাঁরা প্রকৃত ও বৈধ উপভোক্তা, তাঁরা সকলেই টাকা পাবেন।’’
এ দিন বহরমপুরে দায়ের হওয়া একটি মামলার প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমি এর আগে রাকিবুল শেখের কথা বলেছিলাম। সেই মামলায় বড় পর্দাফাঁস হয়েছে। বহরমপুরের ৮৪৩/২০২৬ নম্বর মামলায় এখনও পর্যন্ত ২২টি ভুয়ো অ্যাকাউন্টের সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে ১৫টি অ্যাকাউন্ট পাওয়া গিয়েছে মুস্তাফিজুর রহমানের নামে।’’
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিরোধীদের একাংশের সমালোচনারও জবাব দেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ‘‘গত কয়েকদিন ধরে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিভ্রান্তি ও মিথ্যা প্রচার চালানো হয়েছিল। কিন্তু এখন তাঁরাই ফর্ম পূরণের জন্য এগিয়ে আসছেন।’’ মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগে অফলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছিল। সোমবার থেকে অনলাইন আবেদনও চালু হয়েছে। জেলায় জেলায় ২০ জন আধিকারিক এই প্রক্রিয়ার উপর নজরদারি করছেন।
রাজ্য সরকারের আশা, বুধবার থেকেই বড় সংখ্যায় উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো সম্ভব হবে। সে দিন জেলা স্তরে বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। নবান্ন থেকেও এ বিষয়ে পৃথক ঘোষণা করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দুর দাবি, বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে অন্নপূর্ণা যোজনার অগ্রগতি নিয়ে প্রশাসনের তরফে তথ্য প্রকাশ করা হবে। তাঁর কথায়, ‘‘নিয়মিত প্রায় দু’লক্ষ আবেদন যাচাই করা হচ্ছে।’’
একই সঙ্গে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, আগের সরকারের আমলে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং বহু অযোগ্য ব্যক্তি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ‘‘প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা গিয়েছে।’’ এই অভিযোগের তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি আর্থিক তছরুপের অভিযোগে পৃথক মামলাও দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।