ঢুকে গেল অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা !

শুরু অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা বিতরণ, প্রথম দিনেই উপকৃত ২৮ লক্ষের বেশি মহিলা, দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির ‘সংকল্পপত্রে’ দেওয়া অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি ছিল রাজ্যের মহিলাদের জন্য ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বুধবার থেকে প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা দেওয়া শুরু হল বলে ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, প্রথম দিনেই ২৮ লক্ষ ২৫ হাজার ৭৬৯ জন মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি মাসিক ভাতার টাকা পাঠানো হয়েছে।

নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘খুব অল্প সময়ের মধ্যে মুখ্যসচিব, অর্থসচিব এবং প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকদের সহযোগিতায় এই প্রকল্প চালু করা সম্ভব হয়েছে। যাঁরা প্রকল্পের যোগ্য, তাঁরা সকলেই এর সুবিধা পাবেন।’’

নির্বাচনী ইস্তাহারে রাজ্যের মহিলাদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। সরকার গঠনের পর সেই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’। প্রশাসনের দাবি, সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর ফলে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা কমবে।

তবে প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকা নিয়ে নতুন করে যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি ভোটার তালিকার বিশেষ পর্যালোচনার পর দেখা গিয়েছে, বহু নাম স্থায়ীভাবে বাদ পড়েছে। তাঁর দাবি, এমন কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন, যাঁদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘আমরা চাই না কোনও অ-ভারতীয় নাগরিকের অ্যাকাউন্টে সরকারি অর্থ পৌঁছে যাক। সেই কারণেই নতুন করে আবেদনপত্র গ্রহণ এবং যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য নতুন করে আবেদন জমা নেওয়া শুরু হয়েছে। অনলাইন ও অফলাইন— দু’টি মাধ্যমেই ফর্ম পাওয়া যাবে। যাঁরা নিজেরা আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবেন না, তাঁদের বাড়িতে সরকারি প্রতিনিধি পাঠানোর ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী তিন মাস ধরে আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া চলবে এবং প্রতি সাত দিন অন্তর তালিকা সংশোধনের কাজ করা হবে।

অন্যদিকে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, যাঁরা ইতিমধ্যেই আবেদন করেছেন, তাঁরা বুধবার থেকেই সরাসরি ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে টাকা পেতে শুরু করেছেন। তাঁর দাবি, নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও ফর্ম জমা দেওয়ার পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যেই অর্থ তাঁদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।

নতুন সরকারের অন্যতম প্রধান জনকল্যাণমূলক প্রকল্প হিসেবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারকে তুলে ধরা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে, আগামী কয়েক মাসে প্রকল্পের আওতায় কত জন নতুন সুবিধাভোগী যুক্ত হন এবং প্রশাসন কতটা দ্রুত আবেদন যাচাইয়ের কাজ সম্পূর্ণ করতে পারে।