এবার পুলিশের জালে জয়প্রকাশ

ফ্ল্যাট দখলের অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার, বিধাননগরে চাঞ্চল্য

বিশ্বজিৎ পাল, নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এবার গ্রেফতার তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার। ফ্ল্যাট দখলের অভিযোগে গ্রেফতার করা হল তৃণমূল নেতাকে। বুধবার বিধাননগরের একটি আবাসনের সামনে বিক্ষোভের মধ্যেই তাঁকে আটক করে পুলিশ। পরে বিধাননগর উত্তর থানায় নিয়ে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

অভিযোগ, দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে বিধাননগরের একটি ফ্ল্যাট বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছিলেন জয়প্রকাশ। ওই ফ্ল্যাটের মালিক বৃদ্ধা আরতি রায়চৌধুরী বারবার অনুরোধ ও আইনি নোটিস পাঠিয়েও ফ্ল্যাট ফিরে পাননি। উল্টে তাঁকে কটূক্তি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধাননগরের এ.ই.-৩৩৭ নম্বর ফ্ল্যাটটি ২০১২ সালে ভাড়া নিয়েছিলেন জয়প্রকাশ মজুমদার। ভাড়ার চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০১৫ সাল পর্যন্ত। অভিযোগ, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর নতুন করে কোনও চুক্তি করা হয়নি। এমনকি পুরনো চুক্তি পুনর্নবীকরণও হয়নি। তা সত্ত্বেও ফ্ল্যাটটি খালি না করে সেখানে বসবাস চালিয়ে যান জয়প্রকাশ ও তাঁর পরিবার।

বুধবার সকালে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা এবং অভিযোগকারীর সমর্থকেরা ওই ফ্ল্যাটের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বচসার সময় কয়েকজনের গায়ে হাতও তোলেন জয়প্রকাশ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে জয়প্রকাশকে আটক করা হয়।

অভিযোগকারিণী আরতি রায়চৌধুরীর দাবি, তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন জয়প্রকাশের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তিনি আইনি লড়াই এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ফের সক্রিয়ভাবে নিজের ফ্ল্যাট ফেরত পাওয়ার উদ্যোগ শুরু করেন তিনি। কয়েকদিন আগেই কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ফ্ল্যাটে গিয়েছিলেন আরতি। সে সময় জয়প্রকাশ বাড়িতে না থাকলেও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে বচসা বাধে। ওই ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলেছিল।

বুধবারের ঘটনার পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। জয়প্রকাশের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট জবরদখল, হুমকি এবং অশান্তি সৃষ্টির অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সম্পত্তি দখলের যে অভিযোগ উঠত, এই ঘটনা তারই প্রতিফলন। যদিও তৃণমূলের তরফে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলের।