বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত, দলনেত্রী মমতা

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত, ঘর খুলে দিলেন স্পিকার! তৃণমূলে ভাঙন আরও স্পষ্ট

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের সংকট আরও গভীর হল। দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কৃত হওয়া সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলনেতার ঘরের চাবি তুলে দেন তাঁর হাতে। সেই সঙ্গে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলকে ঘিরে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন নতুন মোড় নিল।

বিধানসভা চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত দাবি করেন, তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি তাঁর পাশে রয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘এখন ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। আরও দু’জন রাজ্যের বাইরে আছেন। তাঁদের সম্মতিও আমাদের সঙ্গে রয়েছে। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা ৬০-এ পৌঁছবে।’’

ঋতব্রত জানান, সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থন নিয়েই তাঁরা নতুন পরিষদীয় নেতৃত্ব গঠন করেছেন। মুখ্যসচেতক হিসেবে আখরুজ্জামানের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি জাভেদ আহমেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন, শিউলি সাহা এবং সন্দীপন সাহাকে ডেপুটি লিডার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ইতিমধ্যেই স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ঋতব্রতের অবস্থান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁদের লড়াই মমতার বিরুদ্ধে নয়। বরং তৃণমূল নেত্রীকে পরিষদীয় দলের ‘পরামর্শদাতা’ হওয়ার আবেদন জানানো হবে। একই সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁদের কোনও রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর ঋতব্রত বলেন, ‘‘মানুষ আমাদের বিরোধী আসনে বসিয়েছে। আমরা দায়িত্বশীল বিরোধীর ভূমিকা পালন করব। সরকারের ভাল কাজের প্রশংসা করব, আবার প্রয়োজন হলে চোখে চোখ রেখে বিরোধিতাও করব।’’

উল্লেখ্য, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই তৃণমূলে বর্তমান সংকটের সূত্রপাত। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব ঘিরে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, বিধায়কদের সম্মতি ছাড়াই তাঁদের স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আনেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। পরে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয়। তদন্তভার যায় সিআইডির হাতে।

এদিকে বুধবার যখন বিধানসভায় নিজের নতুন ভূমিকার কথা ঘোষণা করছেন ঋতব্রত, তখন কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের সঙ্গে বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাতকে আরও স্পষ্ট করে দিল।