ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ইস্তফা দিলেন বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী।

বিশ্বজিৎ পাল, নিজস্ব সংবাদদাতা: বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর দলের অন্দরে যখন টানাপোড়েন ও পদত্যাগের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে, তখনই বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। জানা গিয়েছে, রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের সচিবের কাছেও তাঁর পদত্যাগপত্র পাঠানো হয়েছে।
মেয়র হিসেবে কৃষ্ণার মেয়াদ শেষ হতে এখনও প্রায় আট মাস বাকি ছিল। ২০১৯ সালে তৎকালীন মেয়র সব্যসাচী দত্তকে সরিয়ে তাঁকে মেয়র পদে আনে তৃণমূল। এরপর টানা দু’দফায় তিনি বিধাননগরের মেয়রের দায়িত্ব সামলেছেন। বর্তমানে সব্যসাচী দত্ত পুরনিগমের চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দফতর থেকে বেরিয়ে প্রথমে কৃষ্ণা বলেন, “সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করছি।” তবে পরে তিনি ইস্তফার কারণ সম্পর্কে আরও খোলসা করে জানান, “আমি যে ভাবে কাজ করতে চাইছিলাম, সে ভাবে কাজ করতে পারছিলাম না। নিয়মিত বোর্ড মিটিং হচ্ছিল না, অনেক কাউন্সিলর উপস্থিত থাকতেন না। আধিকারিকদেরও নানা ব্যস্ততা ছিল। এই পরিস্থিতিতে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারব না বলেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

যদিও মেয়র পদ ছাড়লেও কাউন্সিলর হিসেবে মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। গত ১৬ বছরের মতো ভবিষ্যতেও সেই দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিধাননগরের বাসিন্দাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কৃষ্ণা। দফতর ছাড়ার সময় আবেগঘন মুহূর্তে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার কাছে মায়ের মতো।”
তবে তাঁর পদত্যাগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিধাননগরের বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শ্বারদ্বত মুখোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, “উনি টাকার গদিতে বসেছিলেন। বিধাননগরে ম্যাডামের একাধিক সম্পত্তির তথ্য সামনে আসার আগেই লজ্জায় আড়ালে চলে গেলেন।” যদিও এই অভিযোগের কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আনেননি তিনি।
কৃষ্ণা চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। যুব কংগ্রেসের রাজনীতি থেকেই তাঁর সঙ্গে মমতার পরিচয়। পরে তৃণমূল গঠনের সময় তিনি দলের অন্যতম প্রাথমিক সদস্যদের মধ্যে ছিলেন। তাঁর স্বামী সমীর চক্রবর্তীও তৃণমূলের পরিচিত মুখ।
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে কারণ একদিন আগে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমও পদত্যাগ ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। চন্দননগরেও মেয়র পদে পরিবর্তন হয়েছে। ফলে নির্বাচনী পরাজয়ের পর তৃণমূল পরিচালিত পুর প্রশাসনে যে অস্থিরতা বাড়ছে, তা বলাই বাহুল্য।