দলীয় ভাঙনের আবহে কটাক্ষ দিলীপ ঘোষের।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ক্রমশ প্রকট হচ্ছে দ্বন্দ্ব। বিদ্রোহী বিধায়কদের দাবি, রাজ্যের শাসকদলের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি বিধায়ক তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন। সেই আবহেই শুক্রবার তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তাঁর মন্তব্য, ‘‘তৃণমূলের এই নাটক আর বেশি দিন চলবে না। দলটা শেষ হয়ে যাবে। যত তাড়াতাড়ি শেষ হবে, ততই ভাল।’’
সম্প্রতি তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) এবং সন্দীপন সাহা সহ (Sandipan Saha) একাধিক বিদ্রোহী নেতা দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ৮০ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন তাঁদের অবস্থানকে সমর্থন করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত তাঁরা মানছেন না।
শুক্রবার ঋতব্রত দাবি করেন, বিধানসভার অধ্যক্ষ তাঁদের দাবিকে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং তাঁরাই এখন অষ্টাদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ‘‘প্রধান বিরোধী শক্তি’’। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমরা ‘আমি’-তে নয়, ‘আমরা’-তে বিশ্বাস করি। বিধানসভার সমস্ত নিয়ম মেনেই আমরা দাবি জানিয়েছি। সেই দাবিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।’’
একই সঙ্গে তিনি জানান, দলের প্রাক্তন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) তাঁরা এখনও রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবে দেখতে চান। ঋতব্রতের দাবি, ‘‘তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আমাদের দাবির পাশে দাঁড়িয়েছেন।’’
তবে এই দাবিকে মানতে নারাজ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। দলীয় সূত্রের অভিযোগ, বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে জমা দেওয়া নথিতে থাকা একাধিক স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনি ও সাংবিধানিক লড়াইয়ের ইঙ্গিতও মিলেছে।
অন্য দিকে, শুক্রবার স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফতারি নিয়েও সরব হন দিলীপ। প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপকে সম্প্রতি তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এই প্রসঙ্গে দিলীপের মন্তব্য, ‘‘স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে। এত দিন ভয়ে মানুষ মুখ খুলতে পারেনি। এখন একে একে সবাই সামনে আসছে। আগামী দিনে ওদের বিরুদ্ধে শত শত এফআইআর দায়ের হবে।’’
রাজ্যের শাসকদলের অন্দরে যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা ক্রমশ বাড়ছে, তখন বিরোধীদের এই ধারাবাহিক আক্রমণ আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।