JEE-NEET পোর্টাল হ্যাক করে দেখাল কিশোর !

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা পরীক্ষার ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়েই বড় প্রশ্ন উঠছে?

সূচনা পল্যে, সাংবাদিক : নিট পরীক্ষা ঘিরে বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। একদিকে অভিযোগ, ২১ জুনের রি-নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র টেলিগ্রামে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে। অন্যদিকে, মাত্র ১৬ বছরের এক কিশোর দাবি করেছে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সে NTA এবং JEE Advanced-এর গুরুত্বপূর্ণ পোর্টালের নিরাপত্তা ত্রুটি খুঁজে পেয়েছে। তাহলে কি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা পরীক্ষার ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়েই বড় প্রশ্ন উঠছে?

নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বিতর্কের মধ্যেই সামনে এসেছে নতুন বিস্ফোরক অভিযোগ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া কিছু স্ক্রিনশট ও পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ২১ জুনের রি-নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র টেলিগ্রামের একাধিক গ্রুপে বিক্রির চেষ্টা চলছে।


অভিযোগ কী?
রি-নিট প্রশ্নপত্র বিক্রির দাবি
টেলিগ্রাম গ্রুপে পোস্ট
মূল্য: ৩৫,০০০ টাকা
NTA-র তরফে সরকারি নিশ্চিতকরণ নেই

ভাইরাল স্ক্রিনশটে দেখা গিয়েছে, একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে প্রশ্নপত্রের কিছু অংশের ছবি পোস্ট করে সদস্য বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। অভিযোগ, আগাম টাকা দিলেই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পাওয়া যাবে। যদিও এই দাবির সত্যতা এখনও নিশ্চিত করেনি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা NTA। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি সাইবার ক্রাইম বিভাগ খতিয়ে দেখছে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। প্রশ্নফাঁস বিতর্কের মধ্যেই সামনে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। মাত্র ১৬ বছরের এক এথিক্যাল হ্যাকার দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা ত্রুটি খুঁজে বের করেছে।


কে এই কিশোর?
রাইলেন অনিল
বয়স: ১৬
বাসস্থান: দুবাই
পরিচয়: এথিক্যাল হ্যাকার ও সাইবার সিকিউরিটি গবেষক
গ্রাফিক্স আউট

রাইলেনের দাবি, মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যেই সে নিট পোর্টালের একটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি খুঁজে পায়।


NEET পোর্টালে কী ধরা পড়ে?
সুপার অ্যাডমিন লগইন বাইপাস
দুর্বল লগইন সিস্টেম
পরীক্ষা সংক্রান্ত তথ্য অ্যাক্সেসের সম্ভাবনা
হাজার হাজার পর্যবেক্ষকের তথ্য ঝুঁকিতে

রাইলেনের দাবি, এই ত্রুটির সুযোগ নিয়ে কেউ চাইলে পরীক্ষাকেন্দ্রের তথ্য দেখতে, ডেটা পরিবর্তন করতে বা গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক তথ্য অ্যাক্সেস করতে পারত। সে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানায়। এরপর দ্রুত সেই ত্রুটি সংশোধন করা হয় বলে দাবি। কয়েক দিনের মধ্যেই আরেকটি বড় নিরাপত্তা ফাঁকিও খুঁজে পায় রাইলেন। এবার JEE Advanced-এর ফলাফল সংক্রান্ত পরিকাঠামোয়।

JEE Advanced-এ কী ধরা পড়ে?
ক্লাউড স্টোরেজ কনফিগারেশন ত্রুটি
১.৭৯ লক্ষ ফলাফলের তথ্য উন্মুক্ত
১.৮৭ লক্ষ অ্যাডমিট কার্ড অ্যাক্সেসযোগ্য
পাসওয়ার্ড ছাড়াই তথ্য দেখার সুযোগ

রাইলেনের তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেয় আয়োজক প্রতিষ্ঠান। ত্রুটি সংশোধন করে সুরক্ষা বাড়ানো হয়। এই ঘটনাই নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলির ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী নিট এবং জেইই পরীক্ষায় অংশ নেয়। সেই পরীক্ষার তথ্যভাণ্ডার যদি সুরক্ষিত না থাকে, তাহলে শুধু পরীক্ষার স্বচ্ছতাই নয়, পরীক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্যও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই প্রশ্ন উঠছে, প্রযুক্তির যুগে পরীক্ষা পরিচালনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কি যথেষ্ট শক্তিশালী?

রাইলেন জানিয়েছে, ক্লাস এইট থেকেই সে সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে কাজ করছে। লিনাক্স সিস্টেম এবং এথিক্যাল হ্যাকিং নিয়ে দীর্ঘদিনের আগ্রহ তাকে এই ত্রুটিগুলি খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে। তার বক্তব্য, এথিক্যাল হ্যাকারদের কাজ নিরাপত্তা দুর্বলতা চিহ্নিত করা, যাতে বড় ক্ষতি হওয়ার আগেই তা বন্ধ করা যায়। অন্যদিকে, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ও নিরাপত্তা ত্রুটি- দুই ঘটনাই এখন NTA-র ওপর চাপ বাড়িয়েছে। একদিকে পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখা, অন্যদিকে ডিজিটাল পরিকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা- দুই ক্ষেত্রেই বাড়ছে চ্যালেঞ্জ। টেলিগ্রামে প্রশ্নপত্র বিক্রির অভিযোগের সত্যতা কী, তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে। কিন্তু ১৬ বছরের এক কিশোরের হাতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা ফাঁক ধরা পড়া নিঃসন্দেহে উদ্বেগের। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে আরও শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহলে।