চাপে পড়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করল চন্দ্রনাথ রথের আরও একজন খুনি তথা গ্যাংস্টার জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং ওরফে মনু।

নাজিয়া রহমান, সাংবাদিক : মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ খুনে নয়া মোড়। সিবিআই-এর জালে আসল খুনি। প্রায় একমাস ধরে খুঁজছিল এই খুনিকে সিবিআই। বাড়িতে বারবার হানা, পরিবারের সদস্যদের জেরা, সিসিটিভি ফুটেজ সবকিছুর পর এবার চাপে পড়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করল চন্দ্রনাথ রথের আরও একজন খুনি তথা গ্যাংস্টার জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং ওরফে মনু। মনুর আত্মসমর্পণের পর তদন্তে আরও গতি আসবে বলে মত সিবিআই এর। এবার হয়ত জালে ধরা পড়তে পারে চন্দ্রনাথ খুনের আসল মাস্টারমাইন্ড। এবার হয়ত জানা যাবে, চন্দ্রনাথের উপর হামলার ছক কে বা কারা কষেছিল। শুটারদের জোগাড় করা হয়েছিল কি ভাবে?মনু কে জিজ্ঞাসাবাদ করে সব জানতে পারা যাবে বলে আশাবাদী সিবিআই।
৪ ঠা মে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের দুদিন পরের ঘটনা। অর্থাৎ ৬ মে, বুধবার রাতে নিজাম প্যালেস থেকে বেরিয়ে ফিরছিলেন শুভেন্দুর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। হঠাৎ তাঁকে পিছু ধাওয়া করে মধ্যমগ্রামে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালানো হয়। মাত্র ৫০ সেকেন্ডের ‘অপারেশনে’ খুন হতে হয় আপ্ত সহায়ক। এবং জখম হন চন্দ্রনাথের গাড়িচালক। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, চন্দ্রনাথের গাড়ি অনুসরণ করেই হামলা চালানো হয়েছে। সিবিআই এর হাতে দেওয়া হয় তদন্তভার। অপরাধের ধরন দেখে অনুমান, দীর্ঘদিন ধরে রেকির পর এই অপরাধ করা হয়েছে বলে অনুমান তদন্তকারীদের। এই ঘটনাটি ভিনরাজ্যের পেশাদার খুনি বা শার্প শুটার দিয়ে ঘটানো হয় বলে তদন্তে উঠে আসে। এছাড়াও এই ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় দুষ্কৃতী যোগের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে অনুমান তদন্তকারীদের । তদন্তকারীদের মতে, খুনের পর অলিগলি দিয়েই দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। এলাকায় পরিচিত কেউ জড়িত না থাকলে তা সম্ভব নয় বলেই মততদন্তকারীদে। ধরপাকড়ও করা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে। সিবিআই এর হাতে ধরা পড়েন কয়েকজন। অবশেষে সিবিআই এর জালে চন্দ্রনাথের অন্যতম খুনি অভিযুক্ত জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং ওরফে মনু। চন্দ্রনাথ রথের খুন ছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে একাধিক অসামাজিক কাজের সঙ্গে খুনি মনু।
চন্দ্রনাথ রথ খুন ছাড়াও তার বিরুদ্ধে কমপক্ষে ১২টি মামলা রয়েছে। গত ২৫ মে থেকে অভিযুক্ত জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিংএর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। বহু চেষ্টার পর অবশেষে সিবিআই এর গেরই মনু। মনুকে না পেয়ে সিবিআই তার পরিবারকে জেরা করে। তাই সিবিআই এর কাছে এই চাপের মুখে পড়ে আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করেন মনু।জ্ঞানেন্দ্রর স্ত্রীর দাবি যে তাঁর স্বামীকে ফাঁসানো হচ্ছে। যদিও সিবিআই এবং আইনের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে তাঁর। প্রসঙ্গত,কেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক খুন করা হল। আসল মাস্টারমাইন্ড কে? কার নির্দেশে এই কাজ, মনুকে এই নিয়ে করা হবে জিজ্ঞাসাবাদ। সিবিআইয়ের আশা এবার ধরা পড়বে চন্দ্রনাথ রথের খুনের প্রধান মাস্টার মাইন্ড।