আদানি-ধোঁয়াশায় বাংলা

বিনিয়োগ প্রত্যাহারের জল্পনা, তাজপুর প্রকল্পে প্রশ্নচিহ্ন

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : আদানি গোষ্ঠীর পশ্চিমবঙ্গ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়া বা কোনো প্রকল্পের স্থগিতাদেশ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মহলে নানা জল্পনা শোনা গেলেও, আদানি গ্রুপের পক্ষ থেকে সরাসরি এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই যে তারা রাজ্য থেকে সম্পূর্ণভাবে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করছে।
তাজপুর বন্দর প্রকল্প: আদানি গ্রুপের সাথে তাজপুর গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের একটি বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। এটি পশ্চিমবঙ্গের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও রাজনৈতিক আলোচনায় এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই প্রকল্পের কাজ বর্তমানে কোন পর্যায়ে আছে বা আদানি গোষ্ঠী এতে আর কতটা সক্রিয়, তা নিয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহলে বিভিন্ন সময়ে নানা আলোচনা হয়েছে।


বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি: ২০২২ সালে ‘বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট’ (BGBS)-এ গৌতম আদানি জানিয়েছিলেন যে, আদানি গোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গে আগামী ১০ বছরে ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। যার মধ্যে বন্দর পরিকাঠামো, ডেটা সেন্টার, লজিস্টিকস পার্ক এবং বিদ্যুৎ ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি: ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, আদানি গ্রুপ তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন করছে এবং ভারতের পরিকাঠামো খাতে রেকর্ড বিনিয়োগ বজায় রেখেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো বড় নতুন প্রকল্পের ঘোষণা এই মুহূর্তে সেভাবে দৃশ্যমান নয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে মাঝে মাঝেই এই বিষয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ও জল্পনা উঠে আসে।
​আদানি গোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরোপুরি বিদায় নিয়েছে—এমন তথ্য এখনও পর্যন্ত প্রমাণিত নয়, তবে তাজপুরসহ বড় প্রকল্পগুলো নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তা অবশ্যই তৈরি হয়েছে।