লোকসভায় তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা, সায়নীকে ঘিরেও নতুন গুঞ্জন।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা আরও উসকে দিল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের নতুন সমীকরণের খবর। বিধানসভার পরে এ বার লোকসভাতেও দলের সাংসদদের একাংশের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সূত্রের দাবি, তৃণমূলের একাধিক সাংসদ ইতিমধ্যেই নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন। সেই আবহেই যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষকে ঘিরে নতুন জল্পনা ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিসরে সায়নীকে দীর্ঘদিন ধরেই দলের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে দেখা হয়েছে। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে তিনি মূলত অভিনয় জগতের পরিচিত নাম ছিলেন। পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই সরাসরি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় থেকেই দলের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে দেখা যায় তাঁকে। পরবর্তীকালে যুব সংগঠনের দায়িত্ব এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে জয়— সব মিলিয়ে দলের অন্যতম প্রথম সারির মুখ হয়ে ওঠেন তিনি।
তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে তাঁর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দলের অন্দরে চলা টানাপড়েনের আবহে সায়নীও কি বিক্ষুব্ধ শিবিরের দিকে ঝুঁকছেন? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও এ বিষয়ে তাঁর তরফে কোনও প্রকাশ্য মন্তব্য এখনও সামনে আসেনি।
সোমবার দিল্লিতে বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তৃণমূলের কয়েক জন বিক্ষুব্ধ সাংসদের বৈঠকের খবর সামনে আসে। সেই বৈঠকের পর লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে একটি চিঠি জমা পড়েছে বলেও রাজনৈতিক সূত্রে দাবি। ওই চিঠিতে এনডিএ-র সঙ্গে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জল্পনা ছড়িয়েছে। যদিও এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সাংসদদের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, লোকসভায় সাংসদদের অবস্থান বদলালে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে জাতীয় রাজনীতিতেও। কারণ, তৃণমূল দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধী রাজনীতির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।
এদিকে সন্ধ্যায় দিল্লিতে এক সাংসদের বাসভবনে কয়েক জন সাংসদের বৈঠক নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হলেও অংশগ্রহণকারীদের দাবি, সেটি ছিল সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং চা-আড্ডা। তবে রাজনৈতিক মহল মনে করছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন প্রতিটি বৈঠকই নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।