শান্তিকালীন সময়ে ১২ পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন ভারতের

কেন এই উদ্বেগজনক তোড়জোড়?

বিশ্বজিৎ নস্কর, সাংবাদিক : প্রতিরক্ষার কথা মাথায় রেখে ভারত মূলত আধুনিকীকরণে জোর দিচ্ছে। এর পিছনে প্রধানত দুটি কারণ-
​চিনের সাথে কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা: চিন বর্তমানে তাদের পারমাণবিক অস্ত্রাগার দ্রুত বাড়াচ্ছে। ভারতের এই নতুন প্রস্তুতি চিনকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টার সাথে সম্পর্কিত।
পাকিস্তানের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা: প্রতিবেশী পাকিস্তানের সাথে ভারতের দীর্ঘস্থায়ী ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতাও ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।
​৪. ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ নীতির অবস্থান
​এত বড় সামরিক পরিবর্তনের পরেও ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে তার ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ (No First Use) বা ‘আগে আঘাত না করার’ নীতিতে অনড় রয়েছে। এই নীতি অনুযায়ী, ভারত নিজে থেকে কখনও পারমাণবিক আক্রমণ করবে না। এই মোতায়েন কেবল প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে—অর্থাৎ, যদি কোনো দেশ ভারতের ওপর পারমাণবিক হামলা চালায়, তবে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার জন্য ভারত এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ‘রেডি-টু-ফায়ার’ বা প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপটি কোনো নির্দিষ্ট আক্রমণাত্মক উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়নি, বরং এটি ভারতের নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি অংশ। বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা বাড়ছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা পুনরায় শুরু হওয়ার আশঙ্কায় ভারত তাদের কৌশলগত ‘সারভাইব্যাবিলিটি’ বা যেকোনো পরিস্থিতিতে পাল্টা আঘাত করার ক্ষমতা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।