মঙ্গলবার নবান্নে দীর্ঘ বৈঠকের পর মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন দফতরের দায়িত্ব বণ্টন চূড়ান্ত করা হয়েছে।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : নতুন সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনের পর এ বার দফতর বণ্টনের প্রক্রিয়াও শেষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার নবান্নে দীর্ঘ বৈঠকের পর মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন দফতরের দায়িত্ব বণ্টন চূড়ান্ত করা হয়েছে। যদিও বুধবার রাত পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রশাসনিক সূত্রে খবর, স্বরাষ্ট্র-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতর নিজের হাতেই রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সূত্রের দাবি, স্বরাষ্ট্রের পাশাপাশি আইন, বিদ্যুৎ এবং ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরের দায়িত্বও শুভেন্দুর কাছেই থাকছে। প্রশাসনের মূল নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখে সরকার পরিচালনার রূপরেখা স্পষ্ট করেছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নতুন সরকারের প্রথম পর্বে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত।
অর্থ দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বিজেপির প্রবীণ নেতা স্বপন দাশগুপ্তকে। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও নীতিগত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতেই তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের দায়িত্ব পাচ্ছেন বর্ষীয়ান বিধায়ক তাপস রায়। রাজ্যে শিল্পায়ন এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের অনুমান।
স্বাস্থ্য দফতরের দায়িত্ব যাচ্ছে চিকিৎসক-রাজনীতিক ডঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের হাতে। অন্য দিকে, নোয়াপাড়ার বিধায়ক তথা ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংকে পরিবহণ ও শ্রম দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিল্পাঞ্চল এবং শ্রমিক রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়েই এই সিদ্ধান্ত বলে সূত্রের খবর।
নতুন মন্ত্রিসভায় শিক্ষা দফতরকে ফের দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষা দফতরের দায়িত্বে থাকছেন সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। স্কুলশিক্ষা দফতরের দায়িত্ব পাচ্ছেন দীপক বর্মণ। কৃষি দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বিজেপির আদি মুখ দুধকুমার মণ্ডলকে।
উত্তরবঙ্গকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নতুন মন্ত্রিসভায়। শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে পর্যটন দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। বন ও পরিবেশ দফতরের মন্ত্রী হচ্ছেন মনোজ ওঁরাও। ফলে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা স্পষ্ট বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
উল্লেখ্য, গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৮টি জিতে সরকার গঠন করে বিজেপি। ৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ পাঁচ জন মন্ত্রী শপথ নেন। পরে ১ জুন লোকভবনে আরও ৩৫ জন মন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেন। তারপর থেকেই কার হাতে কোন দফতর যাবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছিল। অবশেষে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দফতর বণ্টনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অপেক্ষা।