২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশগ্রহণ করছে এবং সবমিলিয়ে ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

স্বাগতা চন্দ্র সাহা, সাংবাদিক : ভারতীয় সময় অনুসারে আজ রাতেই কিক অফ ফুটবল বিশ্বকাপের। ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশগ্রহণ করছে এবং সবমিলিয়ে ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের ম্যাচ । ১৯শে জুলাই পর্যন্ত চলবে খেলা। মানে এটি রেকর্ড সংখ্যক ৩৯ দিন ধরে চলবে, যা কাতারের ২৯ দিন এবং ২০১৪ ও ২০১৮ সালের আসরের ৩২ দিনের চেয়ে ১০ দিন বেশি। আশা করি এবারের বিশ্বকাপে এমন কিছু মুহূর্ত তৈরি হবে যা দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে রয়েছেন ফুটবলপ্রেমীরা। কোন দেশ জিতবে বলুন তো স্বপ্নের ওই সোনালী ট্রফি। পর্তুগালের হাতে উঠবে ট্রফি। রোনাল্ডোকি পারবেন ট্রফি জিতে মেসি সমর্থকদের জবাব দিতে। নাকি স্পেন, ফ্রান্স আর্জেন্তিনা এগিয়ে রয়েছে লড়াইয়ে। তবে এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৮ করা হয়েছে, যার ফলে তুলনামূলক দুর্বল দলগুলোর কাছ থেকেও বড় অঘটনের সম্ভাবনা রয়েছে। চেনা নামের ভিড়ে অচেনা কেউ তো ছিনিয়ে নিতেই পারে বিশ্বকাপ এমনও পূর্বাভাস মিলছে। আজ বিশ্বকাপের সূচনা পর্বের আগে এমনই সব তথ্য নিয়ে হাজির। তাই ভিডিওটি স্কিপ না করে দেখতে থাকুন। বিশ্বকাপে যে বলটি নিয়ে খেলা হবে তারও একটি বিশেষত্ব রয়েছে। আধুনিক পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়েছে বলটি। অ্যাডিডাসের তৈরি এই বলটি সচল রাখতে নিয়মিত চার্জও দিতে হবে। বলটির নাম দেওয়া হয়েছে ট্রাইওন্ডা । স্প্যানিশ ভাষায় যার অর্থ তিন ঢেউ । বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর প্রতীক হিসেবেই বলটির এ নামকরণ হয়েছে। ট্রাইওন্ডার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সংযোজন হলো এর ভেতরে থাকা ৫০০ হার্টজ গতির সংবেদনশীল সেন্সর চিপ। অ্যাডিডাসের তৈরি এই সেন্সর প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। ফলে বলে কোথায় স্পর্শ করা হয়েছে, বল কত গতিতে চলছে, কী পরিমাণ ঘূর্ণন তৈরি হচ্ছে এবং কোন দিকে যাচ্ছে এসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হবে।
অতএব আধুনিক প্রযুক্তির এই বল পায়ে আপনার প্রিয় তারকা ফুটবলার, রোনাল্ডো, মেসি, লুকাকু, আলিসন বেকাররা। তাই সবুজ গালিচায় বল গড়ানোর আগে জানেন কি কতটা প্রস্তুত আর্জেন্তিনা। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্তিনা। মেসি-রোনাল্ডোকে নিয়ে থাকা গোট বিতর্কে মেসির হাতে থাকা বিশ্বকাপ তাঁকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। একটি বিশ্বকাপ বাদে এই দুই কিংবদন্তি ফুটবলারের মধ্যে পার্থক্য টানার আর বিশেষ কিছু নেই বললেই চলে। দুজনেরই ঝুলিতে রয়েছে অসংখ্য ট্রফি এবং গোল। চলতি বছর পর্তুগাল বিশ্বকাপ জিতলে সেই বিতর্কে জমি আরও শক্ত হবে রোনাল্ডোপ্রেমীদের। তাই অনেকেই চাইছেন পর্তুগাল যেন এ বার বিশ্বকাপ জেতে। বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করেছে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন। তাতে প্রত্যাশিতভাবেই নাম রয়েছে রোনাল্ডোর। পাঁচবারের ব্যালন ডিঅর জয়ী রোনাল্ডো এই নিয়ে ষষ্টবার বিশ্বকাপে নামছেন । ২০০৬ সাল থেকে লাগাতার বিশ্বমঞ্চ মাতিয়ে আসছেন সিআর সেভেন। রোনাল্ডোর পাশাপাশি ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দলে নিজেদের হাতে থাকা প্রায় সব সেরা ফুটবলারকেই সুযোগ দিয়েছে পর্তুগাল। রক্ষণে সেমেদো, গেইগা, দালোত-দের মতো নামী ও অভিজ্ঞ মুখ রয়েছেন। আক্রমণভাগে রয়েছেন নেভেস, ব্রুনো ফার্নান্ডেস, বার্নার্ডো সিলভা, জোয়াও ফেলিক্সরা। এবং অবশ্যই রয়েছেন রোনাল্ডো নিজে। কোচ রবার্টো মার্টিনেজ এবার যে দল সাজিয়েছেন, তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেলে সেই দল বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা বলেই মনে করছেন অনেকেই।
এই প্রথম বার ৪৮টি দেশকে নিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে ফিফা। সেই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে কেপ ভার্দে, উজ়বেকিস্তানের মতো নানা নতুন দেশ। তারাও কীভাবে ফুটবল নয়া স্কিল উপহার দেয় সে দিকেও নজর থাকবে ফুটবলপ্রেমিদের। নতুন দেশ যেমন সংযোজন হয়েছে তেমনি নতুন তারকা ফুটবলাদের দিকেও তো নজর রয়ছে। কী মনে হয় মেসি, রোনাল্ডো, এমবাপ্পেদের আলোয় আলোকিত নয় বরং স্বমহিমায় জ্বলে উঠতে পারবে..আর্জেন্টিনার নতুন প্রজন্মের সবচেয়ে আলোচিত প্রতিভাবান নিকো পাজ। রিয়াল মাদ্রিদের অ্যাকাডেমি থেকে উঠে আসা এই তরুণকে ভবিষ্যতের বড় তারকা হিসেবেই দেখছেন অনেকে। ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির পাশাপাশি ভূমিকা রাখতে পারেন নিকোও। ব্রাজিল ফুটবলে নতুন আশার নাম এন্দ্রিক। বয়স কম হলেও শক্তি, গতি আর ফিনিশিংয়ে তিনি যেন পূর্ণাঙ্গ স্ট্রাইকার। বর্তমানে খেলছেন অলিম্পিক লিওতে। ব্রাজিলের হয়ে ১৫ ম্যাচে করেছেন ৩ গোল। ইউরোপে পা রাখার আগেই বিশ্বজুড়ে আলোচনায় চলে এসেছেন এই বিস্ময় বালক। ফ্রান্সের জার্সিতে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা তরুণ সেনসেশন ওলিসে। গতি, স্কিল আর গোল তৈরির অসাধারণ ক্ষমতায় এরই মধ্যে বুন্দেসলিগায় নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছেন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে এই মৌসুমে ১৫ গোলের পাশাপাশি ১৯টি গোলে অবদান রেখে আছেন লিগের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার দৌড়ে।
জানেন কি এবারের বিশ্বকাপে আয়োজক তিন দেশের প্রতিনিধিত্বকারী তিনটি মাসকট। এগুলি হল যুক্তরাষ্ট্রের ঈগল ক্লাচ, কানাডার মুজ মেপল এবং মেক্সিকোর জঙ্গল থেকে উঠে আসা জাগুয়ার জায়ু। মেপল, জায়ু এবং ক্লাচ আনন্দ, উদ্যম ও ঐক্যের প্রতীক। ঠিক যেমন বিশ্বকাপ নিজেই। ফিফার দাবি, এই তিনটি চরিত্রের মাধ্যমে আয়োজক দেশগুলির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং বৈচিত্র্যকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হবে।কানাডার প্রতিনিধি মেপল একটি মুজ বা বৃহদাকার হরিণ। ফিফার মতে, মেপল কানাডার বিভিন্ন প্রদেশ ও অঞ্চল ঘুরে মানুষের সঙ্গে মিশে দেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। অন্যদিকে, মেক্সিকোর প্রতিনিধি জায়ুর জন্ম দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জঙ্গলে। নাচ, খাবার এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মাধ্যমে মেক্সিকোর পরিচয় বহন করছে এই জাগুয়ার। ফিফার ভাষায়, সীমান্তের গণ্ডি পেরিয়ে আবেগ এবং সংস্কৃতির মাধ্যমে মানুষকে একসূত্রে বাঁধার প্রতীক জায়ু।অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি ক্লাচ একটি ঈগল। দেশজুড়ে উড়ে বেড়িয়ে বিভিন্ন সংস্কৃতি, খেলা এবং মানুষের জীবনযাত্রাকে কৌতূহল ও আশাবাদের সঙ্গে গ্রহণ করার বার্তা দেয় এই চরিত্র।
অন্যদিকে আবার জার্মানির গণিত বিশেষজ্ঞ জোয়াকিম ক্লেমেন্টের ২০২৬-এর ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে করা ভবিষ্যদ্বাণী শোরগোল ফেলেছে সমাজমাধ্যমে। কারণ কোনও চেনা দেশের নামকে তিনি বিজয়ী হিসাবে ঘোষণা করেননি। বরং এমন এক দেশের নাম ঘোষণা করেছেন যে দেশ কখনও ফুটবল বিশ্বকাপ ছুঁয়েই দেখেনি। এটিই তাঁর ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে করা প্রথম ভবিষ্যদ্বাণী নয়। গণিতবিদ ক্লেমেন্ট শেষ তিন বারের (২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২) বিশ্বকাপেরও ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। প্রতি বারই তা মিলে যায়। তাঁর বলা দেশগুলিই শেষে গিয়ে বিশ্বকাপ তোলে। ক্লেমেন্টের মতে, ২০২৬-এ ফিফা আয়োজিত ফুটবল বিশ্বকাপ জিতবে নেদারল্যান্ডস। শুধু ক্লেমেন্ট নয় নিউইয়ার্কের মেয়র মামদানিও করে দিয়েছেন বিশ্বকাপের ভবিষ্যতবাণী। নিউইয়র্কের একটি বিখ্যাত সংবাদমাধ্যমের প্রেডিকশনে অংশগ্রহণ করে তিনি জানিয়েছেন, এবার বিশ্বকাপ উঠবে মরক্কোর হাতে। আপনি কি মনে করেন কোন দেশ জিতবে ওই ঐতিহাসিক সোনালী ট্রফি ?