সইজালকাণ্ডে হাইকোর্টে স্বস্তি অভিষেকের

তবে সিআইডির জেরার মুখোমুখি হতেই হবে নির্দেশ বিচারপতি কৌশিক চন্দ্রের।

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা : সইজাল সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট থেকে আংশিক স্বস্তি পেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিল আদালত।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৌশিক চন্দ্রের এজলাসে মামলার শুনানিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে রক্ষাকবচের আবেদন জানানো হয়। শুনানিতে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আদালতকে জানান, ইতিমধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনটি নোটিস পাঠানো হয়েছে এবং সেই নোটিসগুলির মেয়াদও শেষ হয়েছে। ফলে বর্তমান আবেদন আর গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি চাইলে সিআইডি দফতরে গিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করতে পারেন, আলাদা করে কোনও রক্ষাকবচের প্রয়োজন নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
সিআইডির পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট রেজোলিউশনটি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে পাঠিয়েছিলেন। ওই নথিতে একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর থাকলেও পরবর্তীতে কয়েকজন বিধায়ক অভিযোগ করেছেন যে, যে দিনটির তারিখ রেজোলিউশনে উল্লেখ রয়েছে, সেদিন কোনও বৈঠকই অনুষ্ঠিত হয়নি। অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল আরও জানান, শুধু দু’জন নয়, আরও কয়েকজন বিধায়ক দাবি করেছেন যে তাঁরা ওই দিন উপস্থিত ছিলেন না। ফলে রেজোলিউশনটি ভুয়ো কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

আদালতে রাজ্যের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকার ইঙ্গিত মিলছে। সিআইডির বক্তব্য, তল্লাশিতে উল্লেখযোগ্য কিছু না মেলায় তদন্তের স্বার্থে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে।
এই পর্যায়ে বিচারপতি কৌশিক চন্দ্র প্রশ্ন তোলেন, পূর্ববর্তী নোটিসগুলি কি তবে ‘হাউস ট্র্যাপ’ ছিল? কারণ আগে শুধুমাত্র হাজিরার কথা বলা হলেও এখন হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হচ্ছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য আদালতে জানান, তাঁর মক্কেলকে যখনই ডাকা হবে তিনি তদন্তে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচ দেওয়ার আবেদনও জানান তিনি।
শুনানির সময় বিচারপতি জানতে চান, সংশ্লিষ্ট রেজোলিউশনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে কি না এবং শুধু নাম থাকার ভিত্তিতে তাঁর উপস্থিতি নিশ্চিত বলে ধরা যায় কি না। একইসঙ্গে কতজন বিধায়ক রেজোলিউশনটিকে ভুয়ো বলে দাবি করেছেন, সে বিষয়েও রাজ্যের আইনজীবীর কাছে জানতে চান বিচারপতি।

পরবর্তীতে বিচারপতি কৌশিক চন্দ্র নির্দেশ দেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এদিনই সিআইডি দফতরে হাজিরা দিতে হবে। উত্তরে তাঁর আইনজীবী জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিকেল ৪টায় দিল্লি থেকে কলকাতায় পৌঁছবেন এবং এরপর ভবানী ভবনে যেতে পারবেন।
আদালত নির্দেশ দেয়, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে তাঁকে সিআইডি দফতরে হাজির হতে হবে। তদন্তকারী সংস্থা প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ, তল্লাশি বা তদন্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে। তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না।
বিচারপতি জানান, আগামী তিন সপ্তাহ পর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ততদিন পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচ বহাল থাকবে।