কংগ্রেসে ফিরছেন মমতা ?

মমতাকে নিয়ে এই জল্পনাকে কীভাবে দেখছেন কংগ্রেস নেতানেত্রীরা ?

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ভাঙন গ্রাসে জর্জরিত তৃণমূল। আজ এ তো কাল ও। এবার তো শোনা যাচ্ছে তৃণমূল সুপ্রিমোই দল বদলাচ্ছেন। ফের নাকি কংগ্রেসে ঘর ওয়াপসি হতে চলেছে তাঁর।
কংগ্রেসের হাইকমান্ডের সঙ্গে নাকি হিসাব-নিকাশ সারা। এবার সিলমোহর পড়ল বলে। তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘর ওয়াপসি কতটা ভালো চোখে দেখছে হাত শিবিরের কর্মী থেকে নেতারা?

প্রতিদিনই ভাঙার শব্দ কানে যাচ্ছে। ভাঙন গ্রাসে জর্জরিত তৃণমূল। যে ভাবে দল ভাঙছে কাছের নেতা নেত্রীরা বদলে যাচ্ছেন তাতে করে আর নিজের চোখ, কানকেই বোধহয় বিশ্বাস করতে পারছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার কী হবে হারাধনের দশ ছেলের মতো সংখ্যা যে কমে আসছে। তবে কি সত্যিই রাজনীতির মঞ্চে টিকে থাকতে কংগ্রেসেই ফিরবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে কংগ্রেসকে সাইনবোর্ড হয়ে গেছে মঞ্চ থেকে সুর চড়াতেন সেই কংগ্রেসই কি তাঁর শেষ আশ্রয়স্থল। বাংলার রাজনীতির অলিন্দে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। তাহলে বাংলায় তৃণমূল দলের কী হবে? কোনও কি অস্তিত্ব থাকবে না। এই প্রশ্নের মাঝেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেস যোগ নিয়ে হাত শিবিরে উথাল পাথাল অবস্থা। সোশ্যাল মাধ্যমে পোস্ট করে একি বললেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তিনি পোস্টে লিখেছেন…রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী মানলে সবাইকে দলে স্বাগত। তবে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করেই বার্তা দিয়ে রাখলেন শুভঙ্কর সরকার। এটা তো স্বাভাবিক। প্রদেশ কংগ্রেসের লড়াই ছিল যার বিরুদ্ধে তিনিই যদি সহনেত্রী হন তাহলে তো তা হজম করা অতসহজ নয়। সেটাই হচ্ছে হাত শিবিরে। এদিকে অধীররঞ্জন চৌধুরী কী বলেছেন। শুনেছি তার সঙ্গে নাকি খুব একটা বনে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মনে আসে মুর্শিদাবাদে সেই ভাঙন পর্ব। আজও যার মাসুল দিতে হচ্ছে কংগ্রেসকে। জঙ্গিপুর, জিয়াগঞ্জ, বেলডাঙা, ধুলিয়ান–এই চারটি পুরসভায় একসময়, একজনও কাউন্সিলর ছিল না তৃণমূলের। কিন্তু, দল ভাঙিয়ে রাতারাতি সবকটি পুরসভার দখল নিয়েছিল তৃণমূল। ২০১৩ পঞ্চায়েত নির্বাচনে মালদা আর মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদ জিতেছিল কংগ্রেস। পরবর্তীতে, এই জেলা পরিষদ দুটো দখল করে নিয়েছিল তৃণমূল। আর এরমধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদে তো কংগ্রেস বিয়াল্লিশটি আসন পেয়েছিল। আর তৃণমূল এক। তারপরও কংগ্রেস ভাঙাতে ভাঙাতে গোটা জেলা পরিষদটাই দখল করে নিয়েছিল তৃণমূল। গত পনেরো বছরে যে কংগ্রেসকে তিলে তিলে শেষ করে দিয়েছিলেন, এখন কি সেই কংগ্রেসের ‘দুয়ারে’ দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
কংগ্রেসের নেতা কর্মীরা কী বলছেন তৃণমূল যদি সত্যি কংগ্রেসের সঙ্গে জুড়ে যায় তাহলে কী হবে হাত শিবিরের আগামীর পথচলা। কংগ্রেসের গড় বলে পরিচিত মালদার কংগ্রেস নেতারা কী বলছেন। ভোটের আগে এই মালদাতেই তৃণমূল থেকে ঘর ওয়াপসি হয়েছিল মৌসম বেনজির নুরের। আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘর ওয়াপসির জল্পনায় কতটা খুশি মালদার মালদার হাত শিবিরের নেতারা।

মঙ্গলবার মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় ১০ জনপথে গিয়ে সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন! আর বুধবার সেখানে গিয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। রাহুল গান্ধী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ৮৮ মিনিট বৈঠক হয়েছে। তবে কি যে জল্পনা উঠেছে মমতা ও অভিষেককে নিয়ে তা কি সত্যি হতে চলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসে ফিরলে কী হবে বাংলায় তৃণমূলের ভবিষ্যত। এত কষ্ট করে যে দল তৈরি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই দলের নিচুতলার কর্মী থেকে নেতারা কী বলছেন। আদৌ কি এই টিকে থাকার লড়াইয়ে তাঁদের পাশে পাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা কি মেনে নিয়ে পারবেন তাঁদের প্রিয় নেত্রীর এই সিদ্ধান্ত। তা নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে।

বাংলায় ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর চরম দুর্দিন নেমে এসেছে ঘাসফুল শিবিরে। ঘরের মধ্য়েই ঘরছাড়া অবস্থা। নিজের তৈরি দলেই যেন বহিরাগত। এই পরিস্থিতিতে কি হতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদক্ষেপ তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। অনেকেই বলছেন এত সহজে কি নিজের জায়গা ছেড়ে দেবেন মমতা। নাকি অন্য কোনও বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন তিনি । শোনা যাচ্ছে,তৃণমূল নেত্রী এমন কৌশল নিয়েছেন যাতে করে তাঁর দলের নাম ও প্রতীক , এমনকি দলের তহবিলও পাবেন না ঋতব্রত গোষ্ঠী। আর সাংসদরা নাকি আটকে যাবেন দলবিরোধী আইনের কবলে।