শাকিরা যে মঞ্চে নেই কীভাবে বলছেন তাঁর ফ্যানেরা?

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : এ কেমন বিতর্ক। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে নাকি শাকিরার ডামি। যাঃ এখনেও ধাপ্পাবাজি। আসল শাকিরা নাকি ভ্যানিশ হয়ে গিয়েছিলেন। কী শোনা যাচ্ছে চারিদিকে। এও কি সম্ভব। এ কি পাড়ার বাঁশের তৈরি মঞ্চ নাকি। যে যখন তখন শিল্পী বদল হয়ে যাবে। কিন্তু এখন তো এই খবর নিয়ে ছি ছি পড়ে গেছে বিশ্বজুড়ে। শাকিরার ডামি নাকি কোমর দুলিয়েছেন মঞ্চে। শাকিরার ডামি, সে আবার কে। তবে কি শেষ মুহূর্তে এমন কিছু হয়েছে যার কারণেই এই বিতর্কের অবকাশ। শাকিরা যে মঞ্চে নেই কীভাবে বলছেন তাঁর ফ্যানেরা?
শাকিরার সঙ্গে বিশ্বকাপের যোগসূত্র সেই ২০০৬ সাল থেকে। শাকিরা প্রথম ফিফা বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক মঞ্চে গান গেয়েছিলেন ২০০৬ সালের ৯ জুলাই। জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত ২০০৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে তিনি তাঁর বিখ্যাত গান ‘হিপস ডোন্ট লাই’ পরিবেশন করেছিলেন। এরপরই ২০১০ সাল। ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে তিনি গেয়েছিলেন তাঁর সর্বকালের অন্যতম সেরা এবং জনপ্রিয় বিশ্বকাপ গান ওয়াকা ওয়াকা। যার তালে নেচে উঠেছিল আট থেকে আশি। বিশ্বকাপের সেরা থিম সং এর তালিকা প্রস্তুত হয় তাহলে রিকি মার্টিনসের ওলে ওলের পর ওয়াকা ওয়াকা ওয়াকা জায়গা দখল করে নেবে , কি বলেন আপনারা। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপ।
অফিসিয়াল গান লা লা লা। এটি বিশ্বকাপের জন্য শাকিরার দ্বিতীয় অফিসিয়াল গান। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে উদ্বোধনী,প্রমোশনাল পারফরম্যান্সে শাকিরা যুক্ত ছিলেন। অর্থাৎ শাকিরার অন্তত ৩টি বিশ্বকাপে ২০০৬, ২০১০, ২০১৪ তে সরাসরি বড় ভূমিকায় ছিলেন এবং ২টি বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান তার কণ্ঠে। শাকির নামেতেই রয়েছে জাদু। যার শরীর হিল্লোল ও চোখের চাহুনিতে কাত অনেকেই। বিশ্বকাপের সঙ্গে তাই অতোপ্রতো ভাবে জড়িয়ে গেছেন এই কলম্বোয়িনা পপ তারকা। ২৬ শের বিশ্বকাপেও থিম সং এর জন্য বাছা হয় শাকিরাকে। এবছর প্রথম বিশ্বমঞ্চে বিশ্বকাপের থিম সং প্রথমবার লাইভ পারফর্ম করা হবে বলে ঠিক হয়েছিল। সেখানে পারফর্ম করার কথা হয় শাকিরা ও গ্রামি জয়ী নাইজেরিয়ান আফ্রবিটস সুপারস্টার বার্না বয়ের। দাই দাই সংএ পারফর্ম করার কথা হয়। শুধু উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নয় প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে থাকছে সঙ্গীত পরিবেশনা। কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা, মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী ম্যাডোনা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় বয়ব্যান্ড বিটিএস হাফটাইম শোতে পারফর্ম করবেন। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আগামী ১৯ জুলাই এই ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। জানা গিয়েছে, শাকিরা, ম্যাডোনা ও বিটিএস এই পারফরম্যান্সের জন্য কোনও পারিশ্রমিক নিচ্ছেন না। বরং তারা নিজেদের সময় দান করছেন গ্লোবাল সিটিজেন নামের সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক সংগঠনের উদ্দেশে। এই পর্যন্ত ঠিক ছিল কিন্তু বিতর্ক উস্কে উঠল বিশ্বকাপের শুরুর মঞ্চেই।

মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দাই দাই গেয়েছেন কলম্বিয়ান এই শিল্পী। তবে এবার তাঁর পারফরম্যান্সের পাশাপাশি জন্ম দিয়েছে নতুন বিতর্কও। মঞ্চ মাতানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁর পারফরম্যান্সের আলোচনা তো চলছেই, সঙ্গে উঠেছে একটি প্রশ্নও । মঞ্চে শাকিরাই কি গেয়েছেন, নাকি তাঁর ডামি?নাইজেরিয়ার বার্না বয়ের সঙ্গে আজতেকাতেই এবারের বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সং প্রথমবার লাইভ পরিবেশন করেন শাকিরা। মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের ঘণ্টা দেড়েক আগে হওয়া এই পরিবেশনই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পারফরম্যান্স শেষ হতেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় ভিন্ন এক আলোচনা। অনেকের দাবি, মঞ্চে থাকা গায়িকার চলাফেরা, শারীরিক ভঙ্গি ও মুখাবয়ব শাকিরার পরিচিত উপস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। মাদ্রিদভিত্তিক ক্রীড়া দৈনিক মার্কাতেও এই নিয়ে আলোচনা হয়েছে। হলুদ রংয়ের পোশাক পরেছিলেন। তবে যে আকর্ষণীয় চোখের জন্য তিনি ভক্তদের হৃদয়ে ঝড় তোলেন, সেই চোখ ঢাকা ছিল কালো সানগ্লাসে। মিনিট কয়েকের পারফরম্যান্সে সানগ্লাস পরেই দেখা যায় শাকিরাকে। যাঁকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সেরা আকর্ষণ মনে করা হচ্ছিল, তাঁকে দেখে হতাশ হয়েছেন অনেকে। তারপর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কের ঝড়। ‘হিপস ডোন্ট লাই’ খ্যাত তারকার শরীরী ভাষাই কি ভুয়ো? অনেকেরই মনে হয়েছে, শাকিরা নয়, তাঁর ডামি কাউকে দিয়ে পারফর্ম করিয়েছে ফিফা। বিতর্কের মূল কারণ দুটি। এক, কেন কালো সানগ্লাস পরেছিলেন কলম্বিয়ার পপস্টার। দুই, তাঁর নাচ দেখে অনেকেরই মনে হয়েছে, এটা প্রকৃত শাকিরা নন, তাঁর মতো দেখতে অন্য কেউ। সচরাচর তাঁকে যেরকম দেখতে লাগে, সেরকম লাগেনি দর্শকদের। লাতিন আমেরিকায় এমনিতেই শাকিরার ডামি হিসাবে শাকিবেক্কা বিখ্যাত। ভেনেজুয়েলার শাকিবেক্কাকে দেখে অনেকেই শাকিরা ভেবে বিভ্রান্ত হয়েছিলেন। তাই শাকিরা ফ্যানরা প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা অন্যরকম শাকিরা কি শাকিবেক্কা ? তবে ফিফার তরফে এই নিয়ে কিছু জানা যায়নি। এখন দেখার বিশ্বকাপের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে এই বিতর্কের অবসান হয় কিনা।