ইডির প্রশ্নবাণের মধ্যে অভিষেককে সমন স্পিকারের!

অভিষেককে দেওয়া হল মাত্র দু’ঘণ্টা সময়। স্পিকারের নোটিসে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: তৃণমূল কংগ্রেসের এক বিদ্রোহী গোষ্ঠীর একত্রীকরণের আবেদন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বিষয়টি নিয়ে দলের উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে সূত্রের খবর। এই আবহেই স্পিকারের দফতর এবং তৃণমূল নেতৃত্বের মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

তৃণমূল সূত্রের দাবি, গত ১৫ জুন দুপুর ২টোর সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে স্পিকারের দফতর থেকে একটি ই-মেল পাঠানো হয়। সেই সময় তিনি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি ছিলেন। তদন্ত প্রক্রিয়ার নিয়ম মেনে তখন তাঁর কাছে মোবাইল ফোন বা ব্যক্তিগত ই-মেল ব্যবহারের সুযোগ ছিল না।

দলের অভিযোগ, ওই ই-মেলে তাঁকে সেদিনই বিকেল ৪টার মধ্যে দিল্লিতে স্পিকারের সঙ্গে দেখা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। অর্থাৎ হাতে ছিল মাত্র দু’ঘণ্টার সময়। তৃণমূলের দাবি, ই-মেল পাঠানোর এক ঘণ্টার মধ্যেই স্পিকারের দফতর থেকে দলের সাংসদ কীর্তি আজ়াদকে ফোন করে বৈঠকের বিষয়ে জানানো হয়।

এর পর কীর্তি আজ়াদ নিজে স্পিকারের দফতরে গিয়ে অভিষেকের অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, অভিষেক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে সহযোগিতা করছেন এবং সেই কারণে নির্ধারিত সময়ে বৈঠকে উপস্থিত থাকা সম্ভব নয়। দলের তরফে পরে অন্য দিন ও সময় নির্ধারণের আবেদনও করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এ দিকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর একত্রীকরণের আবেদন ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। বিদ্রোহীরা তাদের পদক্ষেপের স্বীকৃতি চাইলেও তৃণমূল নেতৃত্ব সেই আবেদনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

অন্য দিকে, সোমবার প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে ইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তিনি কোনও চাপের কাছে মাথা নত করবেন না। ভবিষ্যতে আবার তলব করা হলে তদন্তে সহযোগিতা করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে মঙ্গলবার সিআইডি দফতরে হাজিরা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

এই পরিস্থিতিতে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষও তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। মঙ্গলবার কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘‘তদন্ত শুরু হয়েছে। কত দূর যায়, তা দেখা যাক। বহু মামলায় অভিষেকের নাম উঠে এসেছে।’’

একই সঙ্গে আগামী ২১ জুন কলকাতার রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর যোগ দিবসের অনুষ্ঠানের স্থান নির্বাচন নিয়েও মন্তব্য করেন দিলীপ। তাঁর দাবি, অতীতে ওই এলাকায় বিভিন্ন ধর্মীয় জমায়েত হয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে আপত্তি তোলার কোনও কারণ নেই। নিরাপত্তা ও জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখেই প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।