অবশেষে স্বস্তি পেল ভারত, দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললেন উচ্চশিত প্রধানমন্ত্রী মোদী।

বিশ্বজিৎ নস্কর, সাংবাদিক : দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই চুক্তিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এর ফলে দীর্ঘকাল ধরে অশান্ত থাকা পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
একই সাথে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, এই চুক্তির মাধ্যমে তা কেটে গিয়ে নৌচলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতা পুনরায় পুনরুদ্ধার হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে গভীর অর্থনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছিল এবং বহু দেশের সাধারণ মানুষকে প্রাণহানি ও বিপুল পরিমাণ সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদী লিখেছেন, “পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া চুক্তিকে আমি স্বাগত জানাই। এই উত্তেজনার কারণে বিশ্বজুড়ে গুরুতর অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটেছে এবং বহু দেশে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।” ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি আরও যোগ করেন, “ভারত আশা করে যে এই চুক্তির বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং নৌচলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। আমরা আলোচনার মাধ্যমে অবশিষ্ট বিষয়গুলোর ওপর একটি স্থায়ী ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে পৌঁছানোর আশা রাখি।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথআউট’-এ একটি পোস্টের মাধ্যমে ঘোষণা করেন যে, দুই দেশের মধ্যে এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে উপ-রাষ্ট্রপতি জে.ডি. ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে বিদেশ মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবফ উপস্থিত থাকবেন। প্রাথমিকভাবে ঘোষিত ৬০ দিনব্যাপী এই যুদ্ধবিরতি চলাকালীন দুই দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যাবেন। এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আন্তর্জাতিক ব্যাংকে জব্দ থাকা ইরানি তহবিলের মুক্তি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ। আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে, চূড়ান্ত ও স্থায়ী চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত এই অস্থায়ী দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।