ভবানীপুরের ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে মমতা, দাখিল হলফনামা।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দুপুরে আচমকাই হাই কোর্টে পৌঁছে তিনি ভবানীপুর আসনে বিজেপি প্রার্থী তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জয়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন সংক্রান্ত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়ায় হলফনামা জমা দেন। চলতি বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর এই নিয়ে দ্বিতীয়বার হাই কোর্টে গেলেন মমতা।
এর আগে গত ১৪ মে ভোট-পরবর্তী অশান্তি সংক্রান্ত একটি মামলায় সওয়াল করতে হাই কোর্টে হাজির হয়েছিলেন তিনি। সেই সময় আদালত চত্বরে আইনজীবীদের একাংশের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। এজলাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে স্লোগানও ওঠে। প্রায় এক মাস পর ফের আদালতে উপস্থিত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার মমতার হাই কোর্টে আগমন প্রথমে অনেকের কাছেই ছিল অপ্রত্যাশিত। পরে তাঁর আইনজীবী জানান, ভবানীপুর কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে একটি ইলেকশন পিটিশনের অংশ হিসেবেই তিনি হলফনামা দাখিল করেছেন। আদালতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ এবং সাংসদ দোলা সেন।
চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করেন। সেই ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকেও শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরেছিলেন মমতা। সেই ফলাফল নিয়েও তিনি আদালতে নির্বাচন মামলা দায়ের করেছিলেন। নন্দীগ্রাম সংক্রান্ত সেই মামলা এখনও বিচারাধীন। ভবানীপুরের ক্ষেত্রেও একই পথে হাঁটলেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৪ মে ভোটগণনার দিন থেকেই ভবানীপুরের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে গণনা চলাকালীন তিনি অভিযোগ করেছিলেন, গোটা প্রক্রিয়া একতরফাভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তাঁকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি ভোট লুটের অভিযোগ তুলে ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
এদিকে, রাজারহাট নিউটাউন কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায়ও নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। ফলে বিধানসভা ভোট-পরবর্তী আইনি লড়াই আরও জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।