আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানকে ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র’ বলে কটাক্ষ ভারতীয় প্রতিনিধির।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের বার্ষিক সম্মেলনের মঞ্চে ফের পাকিস্তানকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করল ভারত। কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলে পাকিস্তানের প্রতিনিধির বক্তব্যের জবাবে দিল্লির প্রতিনিধি অনুপমা সিং ইসলামাবাদকে ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর অভিযোগ, সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয়, প্রশিক্ষণ ও মদত দেওয়াই পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় নীতি। আর সেই নীতিরই ফল এখন নিজের দেশকেই ভুগতে হচ্ছে।
সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অনুপমা বলেন, “জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এই বিষয়ে কোনও দ্বিমত নেই। একমাত্র অমীমাংসিত বিষয় হল পাকিস্তানের অবৈধ দখলে থাকা ভারতীয় ভূখণ্ড, যা ফেরত দেওয়া উচিত।” কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের বক্তব্যকে ‘মিথ্যাচার’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাওয়ালকোটে সংঘটিত সহিংস বিক্ষোভ এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে জনরোষের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন ভারতের প্রতিনিধি। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সামরিক শক্তির জোরে শাসন, মৌলিক অধিকার খর্ব করা এবং জনবিন্যাসে হস্তক্ষেপের ফলেই সেখানে পরিস্থিতি বিস্ফোরক হয়ে উঠেছে। অনুপমার কথায়, “খাদ্য, বিদ্যুৎ, নাগরিক অধিকার ও মর্যাদার মতো মৌলিক দাবিগুলিকেও দমন করা হচ্ছে। বন্দুকের জোরে শাসন চালিয়ে যাওয়ার ফলেই আজ এই পরিস্থিতি।”
উল্লেখ্য, চলতি মাসে রাওয়ালকোটে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষে অন্তত ১১ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। নিহতদের মধ্যে চার জন পুলিশকর্মীও রয়েছেন। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ভারতের প্রতিনিধি।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদতের অভিযোগও নতুন করে উত্থাপন করেন অনুপমা। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রকাশ্যেই জঙ্গিদের আশ্রয়, প্রশিক্ষণ ও ব্যবহার করার কথা স্বীকার করেছেন। অথচ একই সঙ্গে পাকিস্তান নিজেকে সন্ত্রাসবাদের শিকার বলে তুলে ধরে। এর চেয়ে বড় বৈপরীত্য আর কী হতে পারে?”
এর পরেই তিনি পাকিস্তানকে ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র’ বলে আখ্যা দেন। তাঁর মন্তব্যের অর্থ, “এটি এমন এক রাষ্ট্র, যে নিজেই দানব সৃষ্টি করেছে এবং এখন সেই দানবের আক্রমণে বিস্মিত হওয়ার ভান করছে।”
পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ভারতের প্রতিনিধি। তিনি বলেন, সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদ রুখতে কড়া পদক্ষেপ প্রয়োজন। সেই প্রেক্ষিতে সিন্ধু জলচুক্তি বাতিলের পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি।
রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ভারতের এই কড়া অবস্থানের পর পাকিস্তানের প্রতিনিধি কার্যত কোনও জোরালো পালটা যুক্তি তুলে ধরতে পারেননি বলেই কূটনৈতিক মহলের একাংশের দাবি। ফলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সন্ত্রাসবাদ ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের আক্রমণাত্মক কূটনীতি আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল।