শান্তিচুক্তি কার্যকর হতেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে শুরু জাহাজ চলাচল

কী বলছেন খামেনেই?

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিচুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (MoU) কার্যকর হওয়ার পর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে।
​এই চুক্তির বাস্তবায়ন এবং জাহাজ চলাচল শুরুর বিষয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনেই (যিনি চলতি বছরের শুরুতে পূর্ববর্তী সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর দায়িত্ব নিয়েছেন) একটি লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
​নীতিগত ভিন্নমত সত্ত্বেও অনুমোদন: সর্বোচ্চ নেতা খামেনেই জানিয়েছেন যে, নীতিগতভাবে এই চুক্তি নিয়ে তাঁর “ভিন্নমত বা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি” ছিল। তা সত্ত্বেও তিনি এই সমঝোতা বাস্তবায়নের অনুমতি দিয়েছেন।
​প্রেসিডেন্টের ওপর দায় অর্পণ: তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (যিনি সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান) এবং কাউন্সিলের অন্যান্য সদস্যরা ইরানের জাতীয় অধিকার ও “প্রতিরোধ ফ্রন্ট” (Resistance Front)-এর স্বার্থ রক্ষার সম্পূর্ণ দায় নেওয়ার পরেই তিনি এতে সম্মতি দিয়েছেন।
​যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবি প্রত্যাখ্যান: খামেনেই তাঁর বিবৃতিতে জানান, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে মার্কিন পক্ষ যদি চুক্তির বাইরে কোনো অতিরিক্ত বা অন্যায় দাবি (Excessive demands) চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে ইরান তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
​ভবিষ্যৎ আলোচনা মানেই আত্মসমর্পণ নয়: সামনে দুই দেশের মধ্যে যে মুখোমুখি বা প্রত্যক্ষ টেকনিক্যাল আলোচনা হতে যাচ্ছে, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভবিষ্যতের এই আলোচনার অর্থ এই নয় যে ইরান শত্রুর দৃষ্টিভঙ্গি বা অবস্থানকে মেনে নিচ্ছে।”
​ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে মন্তব্য: তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই চুক্তিতে আসাকে “হতাশা ও মরিয়া ভাব” (out of desperation) হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন যে ট্রাম্প চুক্তিটি করতে সব ধরনের চাপ ও লিভারেজ ব্যবহার করেছিলেন। অন্যদিকে, ইরানি কর্মকর্তারা সদিচ্ছা ও দেশপ্রেম থেকেই এই সমঝোতায় পৌঁছেছেন।
​প্রেক্ষাপট: এই চুক্তির আওতায় আগামী ৬০ দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা চলবে। বর্তমানে চুক্তির শর্তানুযায়ী হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো টোল ছাড়াই জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে ইরান এই রুটে নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের নিজস্ব ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ (PGSA)-এর মাধ্যমে জাহাজ চলাচলের রুট ও সময়সূচি নিয়ন্ত্রণ করছে।