প্রথম দল হিসাবে নক আউটে মেক্সিকো

গ্রুপ এ-তে ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে গেল মেক্সিকো।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : বিশ্বকাপ মানেই তো প্রতিদিন নতুন নতুন চমক। আর সেই চমকের তালিকায় এবার আগে নিজের নাম লিখে ফেলল আয়োজক দেশ মেক্সিকো। ঘরের মাঠে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসকে সঙ্গী করে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করল মেক্সিকো। অন্যদিকে, আরেক আয়োজক কানাডাও কাতারকে ৬ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের শক্তির পরিচয় দিয়েছে। যেখানে এখনও জয়ের খোঁজে রয়েছে মেসির আর্জেন্তিনা। সেখানে মেক্সিকোর এই সাফল্য ফুটবল বিশ্বে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের শুরু থেকেই ঘরের মাঠের দর্শকদের সামনে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে শুরু করে মেক্সিকো। প্রথমার্ধে একাধিক আক্রমণ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি তারা। তিনটি গোলমুখী শট নিলেও তেমন বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেনি। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়াও নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে ছোট ছোট পাসে মেক্সিকোর রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করে। তবে মেক্সিকোর শক্তিশালী রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করে। তবে মেক্সিকোর শক্তিশালী ডিফেন্সের সামনে বারবার থেমে যায় তাদের আক্রমণ। ফলে প্রথম ৪৫ মিনিট শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থায়।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই ম্যাচের গতি বদলে দেয় মেক্সিকো। ৫০ মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক কিম সিউং-গিউর একটি ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় তারা। বক্সের মধ্যে বল নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে হাত থেকে বল ছিকটে যায় কিমের। সেই সুযোগে লুইস রোমো ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে মেক্সিকোকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। গোল হজমের পর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে দক্ষিণ কোরিয়া। একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে মেক্সিকোর রক্ষণে চাপ তৈরি করলেও গোল আসেনি। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে কোরিয়ার সামনে এসেছিল ম্যাচে ফেরার সবচেয়ে বড় সুযোগ। কিন্তু মেক্সিকোর গোলরক্ষক রাউল ব়্যাঙ্গেল অসাধারণ দক্ষতার একের পর এক শট আটকে দিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন। গোটা ম্যাচে বলের দখল বেশি থাকলেও মেক্সিকোর জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি দক্ষিণ কোরিয়া। কোচ হাভিয়ের আগুয়েরের কৌশল অনুযায়ী রক্ষণ সামলে পাল্টা আক্রমণে খেলেছে মেক্সিকো। শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা সফল হয়। একটি গোলই হয়ে ওঠে পার্থক্য গড়ার জন্য যথেষ্ট।

এই জয়ের ফলে গ্রুপ এ-তে ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে গেল মেক্সিকো। দক্ষিণ কোরিয়ার ৩ পয়েন্ট আর চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ আফ্রিকা রয়েছে ১ পয়েন্ট করে। ২০২৬ বিশ্বকাপে দল সংখ্যা ৪৮ হওয়ায় এবার প্রথমবারের মতো ৩২ দলের নকআউট পর্ব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেক্সিকোর কোচ হাভিয়ের আগুয়েরি বলেন, আমরা ভালো খেলছি। ম্যাচটি খুব সুন্দর ছিল না কারণ প্রতিপক্ষ আমাদের বেশি সুযোগ দেয়নি। তবে আমরা তাদের ভুল কাজে লাগিয়ে গোল করতে পেরেছি। মেক্সিকো এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে অভিযান শুরু করেছিল। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ২-১ গোল জয় দিয়ে শুরু করেছিল। মেক্সিকোর জন্য এই জয় আরও বিশেষ কারণ ঘরের মাঠে মেক্সিকো সিটি ছাড়া বিশ্বকাপে আগে কখনও জয় পায়নি তারা। ১৯৭০ ও ১০৮৬ সালের বিশ্বকাপে দেশের মাটিতে খেলা ম্যাচগুলোর বেশিরভাগই হয়েছিল আজটেকা স্টেডিয়ামে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ হং মিউং-বো বলেন, আমরা যে ভুলটি করেছি সেটা দুর্ভাগ্যজনক ছিল। শেষ পর্যন্ত লড়াই করেও সমতা ফেরাতে পারেনি দক্ষিণ কোরিয়া।

মেক্সিকো ২০২২ বিশ্বকাপের হতাশা ভুলে এবার ঘরের মাঠে তারা নতুন স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে কোন দল কেমন পারফরম্যান্স করবে সেই নিয়ে আগে থেকে বলাটা খুব কঠিন। কারণ যে কোনও মুহূর্তে যে কোনও দলই নতুন করে চমক দিতে পারে। আর দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে মেক্সিকোর এই জয় ঠিক তেমনই এক বার্তা।