রাতারাতি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ মমতা। ঋতব্রত শিবিরের আগে নতুন কমিটির তথ্য পাঠাল কালীঘাট, দলীয় নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার মরিয়া চেষ্টা।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : তৃণমূল কংগ্রেসের ‘আসল’ নেতৃত্ব কার হাতে, তা নিয়ে দ্বন্দ্ব এবার পৌঁছে গেল নির্বাচন কমিশনের দোরগোড়ায়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল বলে দাবি করে নতুন জাতীয় কর্মসমিতি ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা পদক্ষেপ করলেন দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাতারাতি সংশোধিত জাতীয় কর্মসমিতি-সহ দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক স্তরের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দিল কালীঘাট শিবির।
দলীয় সূত্রের খবর, কমিশনে পাঠানো নথিতে চেয়ারপার্সন হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামই বহাল রাখা হয়েছে। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এ ছাড়াও রাজ্য সভানেত্রী হিসেবে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, যুগ্ম সম্পাদক পদে ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেনের নাম রয়েছে। কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে শুভাশিস চক্রবর্তীকে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দলীয় প্রতীক এবং সংগঠনের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই দ্রুত কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে মমতা-শিবির।
বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ক্রমশ জোরালো হয়েছে অসন্তোষের সুর। সেই অসন্তোষই পরে প্রকাশ্য বিদ্রোহের রূপ নেয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী বিধানসভায় নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি তোলে। পরবর্তী সময়ে বিরোধী দলনেতার পদ নিয়েও প্রকাশ্যে সংঘাত তৈরি হয় দলের দুই শিবিরের মধ্যে।
সোমবার নিউ টাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে বিদ্রোহী শিবিরের ডাকা বিশেষ অধিবেশনে নতুন জাতীয় কর্মসমিতি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটিতে মমতা বা অভিষেক, কারও নামই রাখা হয়নি। বরং প্রবীণ নেতা অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ চার নেতাকে। পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে জায়গা পেয়েছেন মূলত বিদ্রোহী শিবিরের নেতারাই।
বিশেষ অধিবেশনের পর ঋতব্রত জানিয়েছিলেন, দলীয় সংবিধান মেনেই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নতুন কমিটির নাম নির্বাচন কমিশনে নথিভুক্ত করা হবে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই পাল্টা চাল দেয় কালীঘাট। কমিশনে নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামোর হালনাগাদ তথ্য জমা দিয়ে কার্যত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে মমতা-শিবির— দলীয় নিয়ন্ত্রণ কোনও ভাবেই হাতছাড়া করতে নারাজ তারা।
ফলে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন নির্বাচন কমিশনের দিকে। শেষ পর্যন্ত কমিশন কোন শিবিরের দাবি গ্রহণ করে, তার উপরই নির্ভর করতে পারে তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক লড়াইয়ের গতিপথ।