১৮ গোল ! সবার ওপরে মেসি !

মেসি জ্বলে উঠলেন নিজের চির চেনা রূপে। ওপেন প্লে থেকে জোড়া গোল করে দলকে এনে দিলেন স্বস্তির জয়।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে আর্জেন্তিনা। এই জয়ের নায়ক আর কেউ নন, স্বয়ং লিওনেল মেসি। পেনাল্টি মিসের ধাক্কা সামলে করলেন জোড়া গোল। আর তাতেই ভাঙলো মিরোস্লাভ ক্লোসের রেকর্ড। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন এককভাবে সর্বোচ্চ ১৮টি গোলের মালিক মেসিই। আর্জেন্তিনা যেভাবে খেলছে, তাতে ব্যাক-টু-ব্যাক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন এখন কোটি ভক্তের চোখে। কিন্তু… এই রূপকথার আড়ালেই কি লুকিয়ে আছে এক ভয়ঙ্কর সত্যি?

ম্যাচটা সহজ ছিল না। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করেন মেসি। এমন পেনাল্টি মারলেন যে বল তেকাঠির ভিতরেই থাকল না। মেসিও যে মানুষ এই পেনাল্টি মিস যেন সেটাই ফের প্রমাণ করল। স্বভাবতই বেশ হতাশই লাগছিল মেসিকে। সেই হতাশা থেকেই যেন বারুদ জ্বলে উঠল। মেসি জ্বলে উঠলেন নিজের চির চেনা রূপে। ওপেন প্লে থেকে জোড়া গোল করে দলকে এনে দিলেন স্বস্তির জয়। ম্যাচের ৩৮ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে আসা মাইনাসকে অনায়াস দক্ষতায় জালে জড়িয়ে দিলেন। দ্বিতীয় গোলটি এল দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের একদম অন্তিম লগ্নে। অস্ট্রিয়ার ডিফেন্ডারের পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জড়িয়ে দিলেন জালে। ৩৯ পেরিয়েও মেসি যেভাবে ম্যাচ রিড করছেন, যেভাবে দলকে একার কাঁধে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। এই আর্জেন্তিনা দলটা মাঠে নামে জেতার জন্য, আর মেসি নামেন ইতিহাস লেখার জন্য। কিন্তু এখানেই প্রশ্ন উঠছে আর্জেন্টিনার অতিমাত্রায় ‘মেসি-নির্ভরতা’ নিয়ে। একটু ঠান্ডা মাথায় ভাবুন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্তিনার দুটি গোলই এসেছে মেসির পা থেকে। কিন্তু বাকি ফরোয়ার্ডরা ? গোলপোস্টের সামনে তারা যেন খেই হারিয়ে ফেলছেন। জুলিয়ান আলভারেজ কিংবা লাউতারো মার্টিনেজরা এখনও সেই চেনা ছন্দে নেই। আর এটাই কোচ স্কালোনির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলার জন্য যথেষ্ট। নক আউট পর্বের হিসাব সম্পূর্ণ আলাদা। সেখানে অপর সমান শক্তিধর দেশ যখন মেসিকে ম্যান-মার্কিং করে বোতলবন্দী করে ফেলবে, তখন গোলটা করবে কে? মেসি যদি কোনও ম্যাচে আটকে যান, তবে কি আর্জেন্তিনার বিশ্বকাপ অভিযান সেখানেই থমকে যাবে? বাকিরা যদি গোল না পায়, তবে শুধু মেসির জাদুর ওপর ভর করে কতদূর যাওয়া সম্ভব?

বিশ্বকাপ জিততে হলে শুধু একজন অতিমানবের ওপর ভর করলে চলে না। প্রয়োজন নিখুঁত টিম গেমের। ২০২২ সালেও আমরা দেখেছি এনজো ফার্নান্দেজ বা ম্যাক অ্যালিস্টাররা সঠিক সময়ে গোল করে মেসিকে সাপোর্ট দিয়েছিলেন। এবারও চ্যাম্পিয়ন হতে হলে বাকিদের দ্রুত ফর্মে ফিরতে হবে। স্কালোনিকে জলদি সাজাতে হবে তাঁর ‘প্ল্যান বি’। অভিজ্ঞ কোচ স্কালোনি নিশ্চয় গ্রুপের শেষ ম্যাচে তাঁর যাবতীয় পরীক্ষা সেরে নেবেন। বাকিরাও চাইবেন মেসির যোগ্য হয়ে উঠতে। এরই ফাঁকে ফুটবল বিশ্বে ফের জয়পতাকা ওড়ালেন মেসি। এই ম্যাচ শুরুর আগে বিশ্বকাপে ১৬টি গোল করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসের সঙ্গে যুগ্ম শীর্ষে ছিলেন মেসি। এদিন জোড়া গোল করে পৌঁছে গেলেন একক শীর্ষে। নামের পাশে ১৮ গোল। চলতি বিশ্বকাপে মেসি যে ফর্মে রয়েছেন তাতে সংখ্যাটা আরও অনেকদূর যেতে পারে। তবে নিশ্চিন্ত থাকার সুযোগ কম। মেসিদের জয়ের দিনেই ইরাককে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে। যা চলতি বিশ্বকাপে এমবাপের চতুর্থ গোল। একইসঙ্গে বিশ্বকাপে তাঁর গোলের সংখ্যা বেড়ে হল ১৪। অর্থাৎ মেসির থেকে চারটি গোলে পিছিয়ে এমবাপে। এই ফরাসি তরুণের চোখে যে ক্ষিদে তাতে এবারই মেসিকে পিছনে ফেললে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

মেসির রেকর্ড তো হল, নকআউটও নিশ্চিত। কিন্তু আপনার কি মনে হয় আর্জেন্তিনা কি পারবে এই মেসি-নির্ভরতা কাটিয়ে উঠে টানা দ্বিতীয়বার ট্রফি ঘরে তুলতে? মেসির এই ১৮ গোলের রেকর্ড কি অন্য কেউ ভাঙতে পারবে?