প্রথম ভাষণেই মমতাকে তীব্র আক্রমণ শুভেন্দুর।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বিধানসভায় প্রথম বক্তৃতাতেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগলেন শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার রাজ্যপালের ভাষণের উপর জবাবি আলোচনায় অংশ নিয়ে অতীতের রাজনৈতিক হিংসা, বিরোধীদের উপর অত্যাচার, দুর্নীতি এবং বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট (বিজিবিএস) নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি।
বক্তৃতার শুরুতেই ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দুর অভিযোগ, ‘‘যে অত্যাচার ২০২১ সালে হয়েছিল, তা কোনও সভ্য দেশে হয় না। এক লক্ষেরও বেশি বিজেপি কর্মী ঘরছাড়া হয়েছিলেন। দু’হাজারের বেশি এফআইআর দায়ের হয়েছিল।’’ মগরাহাট পশ্চিমে বিজেপি প্রার্থী মানস সাহার মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি। প্রাক্তন তৃণমূল সরকারের উদ্দেশে তাঁর কটাক্ষ, ‘‘আপনাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।’’
শুভেন্দু আরও অভিযোগ করেন, বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে ১০২টি মামলা করা হয়েছিল এবং ১০৪ বার তাঁকে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। ‘‘রামনবমী, হনুমান জয়ন্তীর মিছিলে হাঁটতে দেওয়া হয়নি। মোথাবাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। মহেশতলায় তুলসীমঞ্চ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সব ক্ষেত্রেই আদালতে যেতে হয়েছে,’’ দাবি মুখ্যমন্ত্রীর।
এর পরেই তিনি বলেন, ‘‘নিউটনের সূত্র অনুযায়ী প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে। যা করা হয়েছিল, মানুষ তার জবাব দিয়েছে।’’ একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, বর্তমান সরকার সংবিধান মেনেই চলবে এবং বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা হবে না।
বক্তৃতায় বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট নিয়েও সরব হন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, তৃণমূল আমলে শিল্প সম্মেলনের নামে বিপুল আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। বিধানসভায় নথি দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান চেম্বার্স অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি)-কে সরাসরি ৩২৪.৭৩ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। সেই সংক্রান্ত ফাইলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। শুভেন্দুর মন্তব্য, ‘‘এটা হিমশৈলের চূড়া মাত্র।’’
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মমতার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ধর্মতলায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘‘তিনি রানি রাসমণিতে বসতে চেয়েছিলেন। আমি পুলিশকে বলেছিলাম, ওয়াই চ্যানেলে জায়গা দিতে।’’ এর পরেই তাঁর সংযোজন, ‘‘যত খুশি মিছিল করুন। আর ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন না।’’
মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক বক্তৃতার জেরে মঙ্গলবার বিধানসভার পরিবেশ বেশ কয়েক বার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকারের প্রথম অধিবেশনেই শাসক-বিরোধী সংঘাতের তীব্রতা স্পষ্ট হয়ে উঠল।