‘‘আমরাই তৃণমূল কংগ্রেস। তাই দলের প্রতীক নিয়ে কোনও প্রশ্নই ওঠে না।’’

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : দলের অন্দরে ভাঙন, বিদ্রোহী শিবিরের আলাদা সাংগঠনিক কাঠামো গঠন এবং নেতৃত্ব নিয়ে টানাপড়েনের আবহে প্রতীক নিয়ে জল্পনা উড়িয়ে দিলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট দাবি, ‘‘আমরাই তৃণমূল কংগ্রেস। তাই দলের প্রতীক নিয়ে কোনও প্রশ্নই ওঠে না।’’
মঙ্গলবার কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বলেন, বিধানসভার অধিবেশন শুরুর আগে নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য ইউনিটকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। সেই নিয়ম মেনেই সমস্ত পদক্ষেপ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘বিশেষ অধিবেশন হোক বা সাধারণ অধিবেশন, নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো বাধ্যতামূলক। আমরা শুধুমাত্র নিয়ম মেনেছি। আমরা তৃণমূল কংগ্রেস, তাই প্রতীক দাবি করার কোনও প্রশ্নই নেই।’’
একই সঙ্গে ঋতব্রত দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিই তাঁদের গোষ্ঠীর সঙ্গে রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘রাজ্যের অধিকাংশ নির্বাচিত প্রতিনিধি আমাদের সঙ্গেই আছেন।’’
সম্প্রতি তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় বিদ্রোহের জেরে দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে অন্তত ৫৮ জন বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠী পৃথক শিবির গড়ে ঋতব্রতকে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে সমর্থন জানিয়েছে। পাশাপাশি, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পরিবর্তে তাঁকেই নতুন বিরোধী দলনেতা হিসেবে সামনে আনা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, বিদ্রোহী শিবিরের তরফে ৩০ সদস্যের একটি জাতীয় কার্যকরী কমিটি (এনডব্লিউসি) গঠনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। সেই কমিটিতে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ, সাবিনা ইয়াসমিন, জাভেদ খান এবং সন্দীপন সাহার মতো নেতাদের রাখা হয়েছে। ফিরহাদ, অরূপ, রথীন এবং সাবিনাকে সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বিদ্রোহী শিবির জানিয়েছে, দলের ‘মেন্টর’ হিসেবেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখতে চায় তারা।
এ দিকে, এই পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করে তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিজেপি। দলের নেতা শিশির বাজোরিয়া দাবি করেছেন, বাংলার মানুষ তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘বাংলার মানুষ যখন প্রকৃত অর্থে ভোট দিয়েছেন, তখনই তৃণমূলের ভিত ভেঙে পড়েছে। ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা দল আজ টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে।’’
শিশিরের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ‘প্রতারণা ও দুর্নীতির’ উপর ভর করেই তৃণমূল ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু মানুষের রায়ে সেই অধ্যায়ের অবসান হয়েছে। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘিরে জল্পনা ও উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।