‘I AM BACK’- বলছেন রোনাল্ডো

প্রমাণ হয়ে গেল বড় খেলোয়াড়রা কথায় নয় জবাব দেন মাঠে!

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : I AM BACK। একটা ছোট কথা। কিন্তু এর মধ্যে লুকিয়ে ছিল এক যোদ্ধার জবাব। আবারও নিজেকে প্রমাণ করলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। সমালোচকদের মুখে যেন ঝামা ঘষে দিয়ে মাঠেই উত্তর দিলেন সিআর সেভেন। প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশামতো ফল না আসার পর ড্রয়ের হতাশা আর একের পর এক সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হতে হয়েছিল তাঁকে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন রোনাল্ডো কি এখনও আগের মতো আছেন। তাঁর কি আর সেই পুরানো ধার রয়েছে? অবসরের কথাও উঠেছে। এখানে সেই প্রমাণ হয়ে গেল বড় খেলোয়াড়রা কথায় নয় জবাব দেন মাঠে। আর উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে ঠিক সেটাই করলেন পর্তুগিজ মহাতারকা। হয়তো এটাকেই বলে প্রকৃত কামব্যাক।

৪১ বছর বয়সেও যে তাঁর মধ্যে আগুন এখনও একই রকম জ্বলছে তার প্রমাণ দিলেন আবারও। উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে মাঠে নামার পর থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। এই ম্যাচটা শুধু আর একটা ম্যাচ নয় এটা ছিল নিজের অস্তিত্ব, নিজের ক্ষমতা প্রমাণ করার লড়াই। হ্যাটট্রিকটা অল্পের জন্য হাতছাড়া হয়েছে ঠিকই। সিআর সেভেনের পারফরম্যান্স বুঝিয়ে দিয়েছে গোলের ক্ষুধা এখনও এতটুকু কমেনি। ম্যাচের শেষের পর ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে সেই পরিচিত আগ্রাসী ভঙ্গিতে বুকের দিকে আঙুল তুলে বললেন আই অ্যাম ব্যাক। যেন গোটা ফুটবল বিশ্বকে মনে করিয়ে দিলেন তাঁর নিয়ে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনও আসেনি। সাধারণত নিজের মাতৃভাষা পর্তুগিজেই কথা বলতে পছন্দ করেন রোনাল্ডো কিন্তু এবার ইংরেজিতে বলা সেই কয়েকটি শব্দ যেন পৌঁছে গেল বিশ্বের প্রতিটি কোণায়।

কাতার বিশ্বকাপের পর থেকেই রোনাল্ডোকে ঘিরে সমালোচনা কম ছিল না। লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ জয়ের পর অনেকেই তুলনা টেনে বলেছিলেন রোনাল্ডোর সেরা সময় হয়তো শেষের পথে। কিন্তু তিনি বরাবরের মতোই নীরব থেকেছেন। কারণ তিনি জানেন, তাঁর সবচেয়ে বড় উত্তর আসে তাঁর পায়ের জাদু থেকে তাঁর পারফরম্যান্স থেকে। ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের পর যখন প্রশ্ন উঠছিল তখনও তিনি নিজের উপর বিশ্বাস হারাননি। কঠিন সময় এসেছে সমালোচনা এসেছে কিন্তু রোনাল্ডো থামেননি। নিজের শরীরকে আরও প্রস্তুত করেছেন। নিজের ফিটনেস ধরে রেখেছেন প্রতিদিন নিজেকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করেছেন। আর সেই জেদই তাঁকে আজও বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের আলোচনায় ধরে রেখেছে।

উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে তাঁর দৌড়, লড়াই এবং গোলের জন্য মরিয়া চেষ্টা দেখে বোঝা গেল বয়স তাঁর শরীরে বাড়লেও মানসিকতায় এখনও সেই পুরনো রোনাল্ডোই রয়েছেন। ৪১ বছর বয়সেও টানা ৯০ মিনিট মাঠে থেকে নিজের সেরাটা দেওয়া। প্রতিটি বলের জন্য লড়াই করা এটা শুধু প্রতিভার নয় অসাধারণ মানসিক শক্তিরও উদাহরণ। এই ম্যাচে শুরু গোল করেননি রোনাল্ডো। বদলে দিয়েছেন নিজের সম্পর্কে তৈরি হওয়া অনেক ধারণা। যাঁরা তাঁকে স্বার্থপর ফুটবলার বলেছিলেন তাঁদেরও যেন মাঠ থেকেই জবাব দিলেন তিনি। সতীর্থদের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া, তাঁদের উৎসাহ দেওয়া এবং দলের জন্য লড়াই করার মানসিকতা দেখিয়ে দিল তিনি শুধু নিজের রেকর্ডের জন্য খেলছেন না। দলের সাফল্যের জন্যও সমানভাবে লড়ছেন।

ম্যাচের পর রোনাল্ডো জানিয়েছেন, কঠিন একটা সপ্তাহের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁদের। কিন্তু দল একসঙ্গে বসে নিজেদের ভুল শুধরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁর কথায় কঠোর পরিশ্রম আর বিশ্বাস কখনও ব্যর্থ হয় না। আর উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে জয় যেন সেই বিশ্বাসেরই ফল। এই ম্যাচে আরও একটি ইতিবহাস তৈরি করেছেন সিআর সেভেন। ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবে নিজের নাম আরও একবার ইতিহাসের পাতায় লিখেছেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়েও দলের সাফল্যই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখনও তাঁর চোখে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন পর্তুগালকে বিশ্বকাপ জেতানো।

সমালোচকদের জন্য় এই প্রত্যাবর্তন ছিল এক কঠিন বার্তা। রোনাল্ডো দেখিয়ে দিলেন তাঁকে শেষ বলে দেওয়া এখনও সম্ভব নয়। যতদিন তাঁর মধ্যে এই জেদ, এই ক্ষুধা আর এই লড়াই করার মানসিকতা থাকবে ততদিন তিনি এমনই ভয়ঙ্কর ভাবে খেলে যাবেন। I AM BACK এটা শুধু একটি ঘোষণা নয় এটা ছিল এক যোদ্ধার প্রত্যাবর্তনের গর্জন। উজবেকদের পাঁচ গোলে উড়িয়ে দিল পর্তুগাল। সামনে পথ কঠিন, চ্যালেঞ্জও আরও বড়। পর্তুগালের পরবর্তী ম্যাচ ২৮ জুন কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে। প্রশ্ন হচ্ছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর এই প্রত্যাবর্তন কি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি ছোঁয়ার গল্প লিখতে পারবে?