মৃত বেড়ে ৯ গ্রেফতার ৩, তদন্তে সিট।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদামঘর ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯। আহত হয়েছেন অন্তত ১৯ জন। বুধবার বিকেলে ব্রেস ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় একটি বেসরকারি সংস্থার নির্মীয়মাণ গুদামঘরের ছাদ আচমকাই ভেঙে পড়ে। ঘটনার পর থেকেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু করে দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, পুলিশ এবং প্রশাসনের একাধিক দল। রাতভর চলে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, মৃতদের পরিবারের হাতে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। আহতদের প্রত্যেককে দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা।
ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই তিন জনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন নির্মাণস্থলের সুপারভাইজার সৈয়দ মহম্মদ গুলজার এবং দুই শ্রমিক সরবরাহকারী মহম্মদ আতাউল ও সুভাষ চৌধুরী। পুলিশ সূত্রের খবর, প্রাথমিক তদন্তে নির্মাণ সংক্রান্ত একাধিক গাফিলতির অভিযোগ উঠে এসেছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে সহকারী পুলিশ কমিশনার জয়সূর্য মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে রাজ্য সরকার।
এ দিকে, রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ দাবি করেছেন, এই ঘটনার সঙ্গে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের যোগ থাকতে পারে। তাঁর কথায়, ‘‘দুর্নীতির সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হবে। কেউ রেহাই পাবেন না। শুধু গ্রেফতার হওয়া কয়েকজন নন, এর পিছনে বড় রাজনৈতিক নামও থাকতে পারে। তদন্তে সব সামনে আসবে।’’
রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাগ্রস্ত নির্মাণস্থলে কর্মরত শ্রমিকদের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশই বিহারের বাসিন্দা। তাঁদের অধিকাংশই মাত্র দু’তিন দিন আগে কলকাতায় এসেছিলেন।
এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদনের ক্ষেত্রে অনিয়মের ইঙ্গিত মিলেছে। তাঁর দাবি, চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি প্রকল্পটির নকশা অনুমোদন করা হয়েছিল। জমিটির মালিক শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্ট অথরিটি (এসএমপিএ)। জমিটি শম্ভুনাথ বেহেরা ও তাঁর অংশীদারদের নামে লিজ দেওয়া হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, প্রাথমিক ভাবে ভুল নকশা অনুমোদন করা হয়েছিল বলেই মনে করা হচ্ছে।
তারাতলার এই দুর্ঘটনা ঘিরে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা বিধি, নির্মাণ মান এবং প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তদন্তের রিপোর্টের দিকেই এখন তাকিয়ে প্রশাসন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।