তারাতলা গুদামঘর ধস: মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা ঘোষণা মোদীর, তদন্তে সিট।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামঘর ধসের ঘটনায় মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াল কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেন, দুর্ঘটনায় মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল (পিএমএনআরএফ) থেকে ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। পাশাপাশি, আহত ২০ জনের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে ব্রেস ব্রিজ সংলগ্ন তারাতলা এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ বেসরকারি গুদামঘরের ছাদ আচমকাই ভেঙে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে খবর, দুপুর ১২টা ৭ মিনিট নাগাদ ঘটে এই দুর্ঘটনা। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েন বহু শ্রমিক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল, পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং প্রশাসনের আধিকারিকেরা। উদ্ধারকাজে নামানো হয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং ভারতীয় সেনাকেও। বৃহস্পতিবারও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত ছিল।
কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত আট জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের সকলকেই এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন বর্তমানে বিপন্মুক্ত বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার সন্ধ্যায় এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি।
ঘটনার পর এক্স হ্যান্ডলে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে, ‘‘কলকাতার দুর্ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তা পৌঁছে দিতে রাজ্য সরকার নিরন্তর কাজ করছে।’’
এ দিকে, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন নির্মাণস্থলের সুপারভাইজার এবং দুই শ্রমিক সরবরাহকারী। প্রাথমিক তদন্তে নির্মাণ সংক্রান্ত একাধিক গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে রাজ্য সরকার। সহকারী পুলিশ কমিশনার জয়সূর্য মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গঠিত ওই দলে রয়েছেন ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের একাধিক অভিজ্ঞ আধিকারিক। তদন্তকারী অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইন্সপেক্টর হিরক দলপতিকে। পাশাপাশি দলে রয়েছেন হোমিসাইড স্কোয়াডের ওসি দেবাশিস দত্ত, অ্যান্টি-রাউডি স্কোয়াডের ইন্সপেক্টর সারফরাজ আহমেদ এবং তারাতলা থানার দুই সাব-ইন্সপেক্টর।
তারাতলার এই দুর্ঘটনা ঘিরে নির্মাণক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধি এবং প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।