“ইসকনের সঙ্গে যুক্ত বিশ্বের ৮কোটি মানুষ নিরামিষাশী। তাঁরাও শারীরিক দিক থেকে সুস্থ সবল।”

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : রাজ্যের মিড-ডে মিল প্রকল্পে ইসকনের ভূমিকা এবং পড়ুয়াদের মিড ডে মিল থেকে ডিম বাদ পড়ার জল্পনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা চরমে। এই আবহে শনিবার মুখ খুললেন ইসকনের সহ-সভাপতি রাধারমণ দাস। ডিমের পরিবর্তে নিরামিষ খাবার দিলে পুষ্টির ঘাটতি হবে বলে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা উড়িয়ে দিয়ে তিনি দাবি করেন, সঠিক পরিকল্পনা মেনে নিরামিষ খাদ্যতালিকাতেও পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব।
রাধারমণের বক্তব্য, ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য এ সি ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ নিজেও বাঙালি ছিলেন এবং তিনি কৃষ্ণভাবনামৃতের আদর্শকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, বর্তমানে ইসকনের মাধ্যমে বিশ্বে প্রায় আট কোটি মানুষ নিরামিষ জীবনধারার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এবং তাঁরা সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন।
ডিমের পুষ্টিগুণ নিয়ে চলা বিতর্কের প্রেক্ষিতে রাধারমণ বলেন, ‘‘ডিমে প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ১৩ গ্রাম প্রোটিন থাকে। কিন্তু সয়াবিন বা সয়া চাঙ্কসে থাকে ৫২ থেকে ৫৪ গ্রাম প্রোটিন। অর্থাৎ, ডিমের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি প্রোটিন পাওয়া যায় সয়াবিন থেকে।’’ শুধু সয়াবিনই নয়, বিভিন্ন ধরনের ডাল এবং পনিরেও ডিমের তুলনায় বেশি প্রোটিন রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘সাধারণ ডালেও গড়ে ২৫ গ্রাম পর্যন্ত প্রোটিন থাকে। পনিরে রয়েছে প্রায় ২২ গ্রাম প্রোটিন।’’
দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নিরামিষভোজীর সংখ্যার প্রসঙ্গ টেনেও নিজের বক্তব্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন ইসকনের সহ-সভাপতি। তাঁর দাবি, রাজস্থান, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা বা উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে নিরামিষভোজীর সংখ্যা বেশি এবং সেখানকার মানুষও সুস্থ জীবনযাপন করছেন। এমনকি ভারতীয় ক্রিকেটার বিরাট কোহলি এবং তাঁর স্ত্রী অনুষ্কা শর্মার উদাহরণ টেনে রাধারমণের দাবি, বিশ্বজুড়ে নিরামিষভোজী হওয়ার প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে।
তবে ডিম বাদ দিয়ে পনির বা সয়াবিন দেওয়ার যে তালিকা সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা নিয়ে আগেই সতর্ক করেছিলেন রাধারমণ। তিনি স্পষ্ট জানান, এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত খাদ্যতালিকা স্থির হয়নি এবং ভাইরাল হওয়া তালিকাটি ইসকনের তরফে প্রকাশ করা হয়নি।
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রের প্রধানমন্ত্রী পোষণ শক্তি নির্মাণ (পিএম পোষণ) প্রকল্পের আওতায় সরকারি এবং সরকার সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে শিশুশ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের রান্না করা খাবার দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্থানীয় প্রয়োজন এবং নির্ধারিত পুষ্টিমানের ভিত্তিতে খাদ্যতালিকা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির উপরই বর্তায়।