দেম্বেলে কি হতে চলেছেন এই বিশ্বকাপের অন্যতম বড় তারকা ?

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ফুটবলে কখনও কখনও এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন একজন খেলোয়াড় শুধু একটি ম্যাচ জেতান না। নিজের সম্পর্কে তৈরি হওয়া সমস্ত প্রশ্নেরও জবাব দিয়ে দেন। এমনই এর রাতের সাক্ষী থাকল বিশ্বকাপের মঞ্চ। কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হালান্ডের দ্বৈরথ নিয়ে যখন ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে তখন সেই আলো কেড়ে নিলেন উসমান দেম্বেলে। মাত্র ৩২ মিনিটের মধ্যে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে ফ্রান্সের জার্সিতে ইতিহাস লিখলেন এই পিএসজি তারকা। তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স নরওয়েকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিল দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স।
ম্যাচ শুরুর আগে ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর মাঠে নামতেই আক্রমণাত্মক ফুটবল শুরু করে ফ্রান্স। কোচ দিদিয়ের দেশঁর দলের লক্ষ্য ছিল শুরু থেকেই নরওয়েকে চাপে ফেলা। ছোট ছোট পাস, দ্রুত আক্রমণ এবং উইং ব্যবহার করে একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে ফরাসিরা। ম্যাচের মাত্র ২৫ সেকেন্ডেই গোলের সুযোগ পেয়েছিল ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপের শট বারে লেগে ফিরে আসে। গোলের জন্য বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। সপ্তম মিনিটেই এমবাপের অসাধারণ পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন উসমান দেম্বেলে। শুরুতেই এগিয়ে যায় ফ্রান্স। এরপর যেন শুরু হয়ে দেম্বেলে ঝড়। ২০ মিনিটে আবারও এমবাপে ও দেম্বেলের যুগলবন্দিতে দ্বিতীয় গোল আসে। মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে এমবাপে দেম্বেলেকে বাড়িয়ে দেন। নরওয়ের একাধিক ডিফেন্ডারের বাধা কাটিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ফরাসি তারকা। নরওয়ে অবশ্য হাল ছাড়েনি। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে এসে আসগার্ড গোল করে ব্যবধান কমান। কিন্তু ৩২ মিনিটের মাথায় নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন দেম্বেলে। বক্সের মধ্যে অঁরেলিয়েঁ চুয়ামেনির কাছ থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে নরওয়ের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি।
এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম হ্যাটট্রিকের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলেন দেম্বেলে। বিশ্বকাপে দ্রুততম হ্যাটট্রিকের রেকর্ড রয়েছে অস্ট্রিয়ার এরিক প্রবস্টের দখলে। যিনি ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে ২৪ মিনিটের মধ্যে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। দেম্বেলে ৩২ মিনিটের হ্যাটট্রিক ছাড়িয়ে গেল ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের গ্যারি লিনেকারের ৩৫ মিনিটের হ্যাটট্রিককে। এই ম্যাচে দেম্বেলের পারফরম্যান্স শুধু একটি হ্যাটট্রিক ছিল না। ছিল দীর্ঘদিনের সমালোচনার জবাব। এক সময় বার্সেলোনায় থাকাকালীন ধারাবাহিকতার অভাব, চোট ও পারফরম্যান্স নিয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। অনেকেই তাঁর প্রতিভা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু ফুটবল কখনও কখনও অপেক্ষা করতে জানে। পিএসজির হয়ে ধারাবাহিক সাফল্য,চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় এবং ব্যক্তিগত সম্মান পাওয়ার পর দেম্বেলে আবার প্রমাণ করলেন কেন তাঁকে বিশ্বের অন্যতম প্রতিভাবান ফুটবলার বলা হয়। একসময় ফ্রান্সের সমর্থকদের কাছে এমবাপেই ছিলেন প্রধান ভরসা। কিন্তু এই বিশ্বকাপে এখন সেই আক্রমণভাগে নতুন আতঙ্কের নাম দেম্বেলে। এমবাপের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া ফ্রান্সকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছে। বিশ্বকাপে দুজনের গোলসংখ্যাও এখন চারটি করে।
নরওয়ে এই ম্যাচে আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওয়েগার্ড-সহ ১০ জন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিয়েছিল। কোচ স্টালে সোলবাকেন জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের শারীরিক ক্লান্তির কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোচের মতে, দলের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। কারণ অনেকেই চেয়েছিলেন হালান্ড ও এমবাপের লড়াই দেখতে। হলান্ডহীন নরওয়ে শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের কাছে ৪-১ গোলে হেরে যায়।
ফ্রান্সের হয়ে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে চতুর্থ গোলটি করেন তরুণ প্রতিভা দেজিরে দুয়ে। বড় ব্যবধানে জয় পেলেও ফ্রান্স বেশ কিছু সুযোগ নষ্ট করেছে যা নকআউট পর্বে তাদের জন্য সতর্কবার্তা হতে পারে। এই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফ্রান্স যে ভয়ঙ্কর সেই বার্তা দিয়ে গেলেন দেম্বেলে ও এমবাপেরা। ১ জুলাই বুধবার ফ্রান্সের সঙ্গে সুইডেনের খেলা রয়েছে। নরওয়ের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের এই জয় কি বিশ্বকাপ জয়ের পথে তাদের আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল। আর দেম্বেলে কি হতে চলেছে এই বিশ্বকাপের অন্যতম বড় তারকা ?