“তিন দশকেরও বেশি সময় পরে এখনও প্রকৃত দোষীদের বিচার হয়নি।”

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ২১ জুলাই, ১৯৯৩ সালের ধর্মতলার পুলিশ গুলি-কাণ্ডের নতুন করে তদন্তের দাবিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দিলেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ তথা বর্তমানে এনসিপিআই (ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া)-র নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁর দাবি, ঘটনার তিন দশকেরও বেশি সময় পরে এখনও প্রকৃত দোষীদের বিচার হয়নি। তাই নতুন করে ফরেন্সিক তদন্তের পাশাপাশি বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশনের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশ করা হোক।
২ জুলাই লেখা ওই চিঠিতে কাকলির অভিযোগ, ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার আগে ২১ জুলাইয়ের ‘শহিদদের’ বিচার পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু সরকারে আসার পর সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি। বরং ঘটনার জন্য দায়ী বলে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
চিঠিতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব মনীশ গুপ্তর প্রসঙ্গও টেনেছেন কাকলি। তাঁর দাবি, ওই সময় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা সত্ত্বেও মনীশ গুপ্তর বিরুদ্ধে কোনও মামলা বা তদন্ত এগোয়নি। উল্টে তৃণমূল সরকার তাঁকে মন্ত্রী করে এবং পরে রাজ্যসভায় পাঠায়। কাকলির অভিযোগ, এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে প্রকৃত দোষীদের রক্ষা করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘এই পদোন্নতি প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।’’
শুধু তা-ই নয়, ২১ জুলাইয়ের গুলি-কাণ্ড সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিও রহস্যজনক ভাবে উধাও হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। কাকলির দাবি, লালবাজার এবং তৎকালীন রাইটার্স বিল্ডিং থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফাইল হারিয়ে যায়। বিচার কমিশনও সেই বিষয়টি উল্লেখ করেছিল। অথচ সেই নথি উদ্ধার বা পুনর্গঠনের জন্য কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে কাকলি একাধিক দাবি জানিয়েছেন। তাঁর আবেদন, অবিলম্বে মামলাটি পুনরায় খোলা হোক। বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশনের রিপোর্ট সর্বসমক্ষে প্রকাশ করা হোক। কমিশনের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা শুরু করা হোক। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আধুনিক ফরেন্সিক প্রযুক্তির সাহায্যে নতুন তদন্ত চালানো হোক এবং প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদেরও যুক্ত করা হোক। পাশাপাশি, নিহতদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
চিঠির শেষে কাকলি দাবি করেছেন, যদি এখনও প্রকৃত দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করা না হয়, তা হলে মানুষের মধ্যে এই ধারণাই আরও জোরালো হবে যে, তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর ভূমিকা আড়াল করতেই দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচার বিলম্বিত হয়েছে। যদিও কাকলির এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও রাজ্য সরকার বা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।