“ইথানল মিশ্রিত পেট্রল নিয়ে সাধারণ মানুষের যে আশঙ্কা রয়েছে, তার অধিকাংশই ভিত্তিহীন।”

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ভারতে জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে ইথানল কর্মসূচি। এমনই দাবি করলেন টয়োটা কির্লোস্কর মোটরের কান্ট্রি হেড এবং কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড গভর্ন্যান্স বিভাগের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট বিক্রম গুলাটি। তাঁর বক্তব্য, ২০২৩ সালের ১ এপ্রিলের পর ভারতে বিক্রি হওয়া সমস্ত গাড়িই ই-২০ (E20) জ্বালানির উপযোগী করে তৈরি হয়েছে। ফলে ইথানল মিশ্রিত পেট্রল নিয়ে সাধারণ মানুষের যে আশঙ্কা রয়েছে, তার অধিকাংশই ভিত্তিহীন।
একান্ত সাক্ষাৎকারে বিক্রম জানান, বর্তমানে ই-২০-ই দেশের মানক জ্বালানি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এটি পুরনো এবং নতুন— উভয় ধরনের গাড়িতেই ব্যবহার করা সম্ভব। তবে ই-৮৫ (E85) বা ই-১০০ (E100)-এর মতো উচ্চমাত্রার ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি সাধারণ গাড়ির জন্য নয়। সেগুলির জন্য বিশেষ ‘ফ্লেক্স-ফুয়েল’ প্রযুক্তির প্রয়োজন।
ভারতের ইথানল কর্মসূচির সূচনার নেপথ্যে রয়েছে দেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা। বিক্রমের কথায়, ‘‘ভারত বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। এতে যেমন অর্থনীতির উপর চাপ পড়ে, তেমনই আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।’’ পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক অস্থিরতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বিকল্প উৎস তৈরি করা সময়ের দাবি।
তাঁর দাবি, ২০১৮ সালের পর কেন্দ্র সরকার কৃষকদের স্বার্থের সঙ্গে ইথানল প্রকল্পকে যুক্ত করায় এই কর্মসূচি নতুন গতি পায়। অতিরিক্ত আখ, চাল বা অন্যান্য শস্য উৎপাদন নষ্ট হওয়ার বদলে তা থেকে ইথানল উৎপাদনের পথ খুলে দেওয়া হয়। এর ফলে একদিকে যেমন কৃষকরা তাঁদের উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারেরও বিপুল আর্থিক সাশ্রয় হয়েছে। বিক্রমের দাবি, এই কর্মসূচির মাধ্যমে ইতিমধ্যেই প্রায় ১.৯ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১.৬ লক্ষ কোটি টাকা সরাসরি কৃষকদের কাছে পৌঁছেছে। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ, বিহার-সহ আখ উৎপাদনকারী রাজ্যগুলিতে কৃষকদের আয় উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে বলেও তাঁর দাবি।

পরিবেশের দিক থেকেও ইথানলকে কার্যকর বিকল্প জ্বালানি বলে মনে করেন টয়োটার এই কর্তা। তাঁর ব্যাখ্যা, গাছ বেড়ে ওঠার সময় যে পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে, ইথানল পোড়ানোর সময় প্রায় সেই পরিমাণ কার্বনই বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসে। ফলে এটি কার্যত ‘কার্বন-নিরপেক্ষ’ জ্বালানি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ইথানল মিশ্রিত পেট্রল ব্যবহারে গাড়ির ক্ষতি হয়— এই ধারণাকেও খারিজ করেছেন বিক্রম। তাঁর দাবি, ২০২১ সালে অটোমোটিভ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (ARAI)-এর সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ই-২০ ব্যবহারে পুরনো গাড়িরও উল্লেখযোগ্য ক্ষতির আশঙ্কা নেই। মাইলেজ কিছুটা কমলেও তা মাত্র ২ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। পাশাপাশি ইথানল উৎপাদনকারী কারখানাগুলিও পরিবেশগত সমস্ত নিয়ম মেনেই পরিচালিত হয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শূন্য বর্জ্য নির্গমন নীতি অনুসরণ করে বলে দাবি করেছেন তিনি।