থানায় অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগ।
বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর এলাকার সারদা শিশু বিদ্যাপীঠে এক শিক্ষককে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্কুলের শিক্ষক সমরজিৎ শাও স্কুলের ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং সহকর্মী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে নরেন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, গত ২৯ জুন তাঁকে স্কুলের ভিতরে আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়। পাশাপাশি তিনি নিজেকে বিজেপির সমর্থক বলেও দাবি করেছেন।

অন্যদিকে, সমরজিৎ শাওয়ের সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে স্কুল কর্তৃপক্ষ, ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং শিক্ষক-শিক্ষিকারাও তাঁর বিরুদ্ধে থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০২১ সালে সমরজিৎ শাও ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকেই তিনি প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করতেন এবং চার তারিখের পর বিজেপির নাম ব্যবহার করে অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের হুমকি দিতেন বলে অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর আচরণে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল বলেও দাবি স্কুলের।
স্কুলের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সম্প্রতি বিদ্যালয়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-এর উদ্যোগে একটি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান এবং তার কয়েক দিন আগে রুদ্র সেনার পক্ষ থেকেও একটি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এই ধরনের সংগঠনের অনুষ্ঠান স্কুল প্রাঙ্গণে কেন আয়োজন করা হচ্ছে, তা নিয়ে সমরজিৎ শাও আপত্তি জানান বলে অভিযোগ।
স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, এই বিষয়কে কেন্দ্র করে তিনি ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যদের ফোন করে অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং হুমকি দেন। তাদের দাবি, অভিযোগের সমর্থনে একটি অডিও রেকর্ডিং এবং গত ২৯ জুনের সিসিটিভি ফুটেজও সংরক্ষিত রয়েছে।
এছাড়া, স্কুলের অভিযোগ অনুযায়ী, ৩০ জুন সমরজিৎ শাও কয়েকজন বহিরাগতকে সঙ্গে নিয়ে স্কুলে এসে জোর করে গেট খোলার চেষ্টা করেন এবং একাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকাকে হেনস্তা করেন। এরপরই স্কুল কর্তৃপক্ষ নরেন্দ্রপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
তবে সমরজিৎ শাও এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষ ভয় দেখিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তাঁর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে বাধ্য করেছে। পাশাপাশি তিনি বিদ্যালয়ে একাধিক আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন।
এদিকে, স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, গত ৫৩ বছর ধরে সারদা শিশু বিদ্যাপীঠ এলাকার অন্যতম পরিচিত প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুনামের সঙ্গে শিক্ষা প্রদান করে আসছে। তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই সমরজিৎ শাও এই ধরনের অভিযোগ করছেন।
বর্তমানে বিদ্যালয়ে মোট ৩৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মরত। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁদের মধ্যে ৩৪ জনই সমরজিৎ শাওয়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর আচরণ সহকর্মীদের প্রতি অসৌজন্যমূলক ছিল এবং তিনি প্রায় সকলের সঙ্গেই দুর্ব্যবহার করতেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যেই উভয় পক্ষই নরেন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ।