প্রতিশ্রুতি মতোই কাজ। ভারত- বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করতে সীমান্ত লাগোয়া এলাকাগুলিতে থানা ও আউটপোস্টের সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে।

বিশ্বজিৎ মণ্ডল, নিজস্ব সংবাদদাতা : অনুপ্রবেশ ইস্যুতে জিরো টলারেন্স বিজেপি সরকারের। বঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে এসে বারবার অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সুর চড়িয়েছিলেন মোদি-অমিত শাহ। এমনকী রাজ্যে পালাবদল হলে সীমান্ত ‘সিল’ করে দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তারা। যেমন প্রতিশ্রুতি তেমনই কাজ। রাজ্যে পালাবদলের পরেই রাজ্য সরকার বিএসএফকে যেমন জমি হস্তান্তর করেছে পাশাপাশি কেন্দ্রের তরফ থেকে সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ভারত- বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করতে সীমান্ত লাগোয়া এলাকাগুলিতে থানা ও আউটপোস্টের সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে। যেমন মালদার সীমান্ত এলাকায় তিনটি নতুন থানা ও তিনটি আউটপোস্ট তৈরির প্রস্তাব তৈরি করেছে জেলা পুলিশ। পাশাপাশি জেলা পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানিয়েছেন ওই জেলার সীমান্ত বরাবর এলাকাগুলিতে বর্তমান আউটপোস্টগুলিকেই পরিবর্তন করে থানায় উন্নত করা হবে। নতুন থানা এবং আউটপোস্টগুলি তৈরি হলে পুলিশের অফিসার ও কর্মী সংখ্যা বাড়বে । টহলদারি, নজরদারির মতো কাজে গতি আসবে। এতে করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক ভালো হবে বলেও মত পুলিশ আধিকারিকদের।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদার কালিয়াচকের গোলাপগঞ্জ, বৈষ্ণবনগর থানার কুম্ভীরা এবং হবিবপুর থানার বুলবুলচন্ডী এই তিনটি আউটপোস্ট ও ফাঁড়িকে উন্নত করে নতুন থানা গড়ে তোলা হবে। নতুন থানা তৈরির পাশাপাশি হবিবপুরের জাজইল ও বামনগোলা থানার জগদল্লা এই দুইটি জায়গায় নতুন দুইটি আউটপোস্ট তৈরী করা হবে। এছাড়া ইংরেজবাজারের লুকোচুরি পুলিশ আউটপোস্টকে নতুন আউটপোস্ট হিসেবে তৈরি করা হবে। জেলা পুলিশ সুপারের মতে, নতুন থানা ও আউটপোস্ট তৈরীর ফলে কর্মী ও অফিসারের সংখ্যা আরও বাড়বে। সবমিলিয়ে অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন নতুন পুলিশ অফিসার এবং ৫০ জনেরও বেশি পুলিশ কর্মী এই থানা বা আউটপোস্টের পাওয়া যাবে। যদিও রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী এক লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগের কথা ঘোষণা করেন যার মধ্যে ২০ হাজার পুলিশে নিয়োগ করা হবে।
তবে শুধু মালদা জেলার সীমান্ত এলাকা নয় উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারসহ সব জেলাতেই সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নেওয়া হচ্ছে একাধিক কড়া ব্যবস্থা।